ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচের পর কোহলির বিশেষ পরামর্শ!
এক সময় ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরাট কোহলি। এখন সেই দায়িত্ব শুভমন গিলের কাঁধে। তাই অধিনায়ক হিসাবে শুভমনের পথচলায় নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পিছপা হচ্ছেন না কোহলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তিরুঅনন্তপুরমে দুর্দান্ত জয়ের পরও তার ব্যতিক্রম হল না। ম্যাচের শেষে শুভমনকে সাজঘরের পরিবেশ কী ভাবে স্বাভাবিক ও আনন্দময় রাখা যায়, সেই পাঠই দিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশ করা ভিডিয়োয় কোহলি জানান, অধিনায়ক বা দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা যদি সব সময় চাপমুক্ত এবং হাসিখুশি থাকেন, তার প্রভাব বাকিদের উপরও পড়ে। তাঁর কথায়, মাঠে যতই চাপ থাকুক, নিজেদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে ক্রিকেট উপভোগ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
কোহলি বলেন, “শুভমন এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমিও অনেক দিন নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন আমি সিনিয়র ক্রিকেটার। সিনিয়র বা অধিনায়কেরা যদি হালকা মেজাজে থাকে, খুশি থাকে, তা হলে বাকিরাও স্বাভাবিক থাকতে পারে। সকলের মনে হয়, কোনও সমস্যা নেই, সব ঠিক আছে।”
তিনি আরও জানান, কঠিন ম্যাচেও ভারতীয় ক্রিকেটারেরা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন। নিজেদের উপর বাড়তি চাপ না দিয়ে খেলাটাকে উপভোগ করাই তাঁদের লক্ষ্য। তবে সেই হাসি-ঠাট্টার মধ্যেও পেশাদারিত্বে কোনও খামতি থাকে না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যায়। শুভমন ১১০ রান করেন। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে কোহলি করেন ১৩৯ রান। দু’জনে মিলে ১৫১ রানের জুটি গড়ে ভারতকে জয়ের পথে নিয়ে যান। এক দিনের ক্রিকেটে এটিও ছিল তাঁদের একসঙ্গে দ্বিতীয় শতরানের জুটি।
ম্যাচের পরে শুভমন বলেন, কোহলির সঙ্গে ব্যাট করার সময় তাঁর দারুণ লাগে। ছোটবেলা থেকে কোহলিকে দেখে এবং অনুসরণ করেই এগিয়েছেন তিনি। এখন তাঁর সঙ্গে একই ক্রিজ়ে ব্যাট করার সুযোগ পাওয়া এবং সেই মুহূর্তগুলি ভাগ করে নেওয়া তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা।
কোহলিও শুভমনকে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ দিন ক্রিকেট খেলতে হলে শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে চলবে না। দলের জয়কে সব সময় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কোহলির কথায়, “তুইও দীর্ঘ দিন খেলতে পারবি, যদি দলকে জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলিস। শুধু পরিসংখ্যানের জন্য দীর্ঘ দিন খেলা যায় না। পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে খেললে আসল লক্ষ্যের সঙ্গে আপোস করতে হয়।”
একসঙ্গে ব্যাট করার সময় দু’জনের মধ্যে অবশ্য খুব বেশি ক্রিকেটীয় আলোচনা হয় না বলেই জানিয়েছেন কোহলি। পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজন হলে শুভমনকে সতর্ক করেন তিনি। ফিল্ডিংয়ের সময় খেলা নিয়ে বেশি কথা হয়। তাঁর মতে, শুভমন নিজেই যথেষ্ট দক্ষ এবং মাঠে কী করতে হবে, তা বোঝার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
অধিনায়ক হিসাবে শুভমনেরও কখনও কখনও পরামর্শের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করেন কোহলি। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁকে নিজের ক্রিকেটীয় বোধের উপরই ভরসা করতে হবে। সিনিয়র হিসাবে কোহলি পাশে থাকবেন, কিন্তু মাঠের নেতৃত্বের দায়িত্বটা শেষ পর্যন্ত শুভমনেরই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।