কোহলির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এত বছর পর মুখ খুললেন রোহিত!
ভারতীয় ক্রিকেটে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির জুটি শুধু মাঠের সাফল্যের জন্য নয়, তাঁদের দীর্ঘ বন্ধুত্বের কারণেও বিশেষ। প্রায় দুই দশক ধরে জাতীয় দলের সতীর্থ তাঁরা। এক সময়ের দুই তরুণ ক্রিকেটার এখন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখ। সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক বদলেছে কি? ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচের আগে সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন রোহিত।
‘জিয়োহটস্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোহিত তাঁদের জনপ্রিয় জুটি ‘রো-কো’ নাম নিয়েও কথা বলেন। সম্প্রচারকারীদের দেওয়া এই নাম প্রথম শুনে তাঁদের দু’জনেরই বেশ মজা লেগেছিল বলে জানান তিনি।
রোহিতের কথায়, তখন তাঁরা হয় অস্ট্রেলিয়ায় খেলছিলেন, নয়তো সিরিজ় শেষ করে সদ্য ভারতে ফিরেছিলেন। টেলিভিশনে ‘রো-কো’ নামটি দেখলেই তাঁরা হাসতেন। তাঁর মতে, দর্শকেরা এই ধরনের মজার বিষয় উপভোগ করেন বলেই নামটি এত জনপ্রিয় হয়ে যায়।
কোহলিও এর আগে ‘রো-কো’ নাম নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, নামটি শুনতে মজার এবং দর্শকেরাও সেটি পছন্দ করেন। এখন দু’জনেই মূলত এক দিনের ক্রিকেটে খেলছেন বলে সম্প্রচারকারীদের মুখে এই নাম আরও বেশি শোনা যায়।
তবে ‘রো-কো’-র বাইরেও তাঁদের সম্পর্কের ভিতটা অনেক পুরনো। রোহিতের আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০০৭ সালে, কোহলির ২০০৮-এ। প্রায় একই সময়ে ভারতীয় দলে পথচলা শুরু। এত বছর পরেও সেই বন্ধুত্বে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি বলেই জানিয়েছেন রোহিত।
তিনি বলেন, দু’জনের খেলার ধরন আলাদা হলেও দেশের হয়ে ভাল করা এবং দলকে জেতানো—এই লক্ষ্য সব সময় এক ছিল। সেই জায়গা থেকেই প্রথম দিকে তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল, যা এখনও রয়েছে।
কোহলির মানসিকতারও বিশেষ পরিবর্তন দেখেন না রোহিত। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম দিন থেকেই কোহলির লক্ষ্য ছিল ভারতকে জেতানো। এত বছর পরেও সেই তাগিদ একই রয়েছে। এখনও নিজেকে প্রস্তুত করে মাঠে নামেন এবং দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে চান।
দু’জনেই এক সময় ভারতীয় দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তাঁদের মধ্যে মিল রয়েছে বলে মনে করেন রোহিত। তাঁর মতে, কোহলি অধিনায়ক থাকাকালীন যেমন আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে জয়ের জন্য খেলতেন, তিনিও অধিনায়ক হিসাবে একই ধরনের মনোভাব রাখার চেষ্টা করেছেন।
ব্যাটিংয়ের সময় তাঁদের কথাবার্তাও ছিল বেশ সাধারণ। রোহিত জানান, কখন কোন বোলারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হবে, কখন দৌড়ে রান নেওয়া হবে—এসব নিয়েই আলোচনা চলত। কখনও রোহিতের পায়ে বল লাগলে কোহলিকে সাবধানে দৌড়ানোর কথাও বলতেন। সেই ছোট ছোট কথার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল তাঁদের ব্যাটিং বোঝাপড়া।
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর দু’জনেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। পরে টেস্ট থেকেও বিদায় নিয়েছেন। এখন তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চ এক দিনের ফরম্যাট। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাই আবারও একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটের এই দুই অভিজ্ঞ তারকাকে। তাঁদের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সফরের শেষ অধ্যায় কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।