বহু বছরের তিক্ততার পর সলমনের পাশে বিবেক!
বলিউডে সলমন খান ও বিবেক ওবেরয়ের পুরনো বিবাদের কথা কমবেশি সকলেরই জানা। এক সময় দু’জনের সম্পর্ক ঘিরে বিস্তর চর্চা হয়েছিল। সেই অতীতের তিক্ততা পাশে সরিয়ে এ বার সলমনের একটি বক্তব্যকে সমর্থন করলেন বিবেক। সমাজমাধ্যমে তারকাদের চেহারা, বয়স কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষের প্রবণতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তিনিও।
মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় বিবেককে। সেখানেই তাঁকে ‘বিগ বস্ ২০’-এর মঞ্চে সলমনের ট্রোলিং-বিরোধী মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে বিবেক বলেন, কাউকে কটাক্ষ করা উচিত নয়। তাঁর মতে, ট্রোলিং অত্যন্ত নেতিবাচক একটি বিষয়। জীবনে ইতিবাচক অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তাই নেতিবাচকতার মধ্যে আটকে থাকার কোনও কারণ নেই।
সম্প্রতি ‘বিগ বস্ ২০’-এর একটি পর্বে সমাজমাধ্যমে তারকাদের চেহারা নিয়ে কটাক্ষের প্রসঙ্গ তোলেন সলমন। সঞ্চালক নিজেও এমন ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানান। তাঁকে বয়স নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েও নানা মন্তব্য করা হয়েছিল।
সেই প্রসঙ্গে সলমন নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেন। অভিনেতার কথায়, সমাজমাধ্যমে কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করা উচিত নয়। নিজের শরীর নিয়েও কটাক্ষের জবাব দেন তিনি। টি-শার্ট খুলে নিজের শরীর দেখিয়ে জানান, তাঁর নতুন ন্যাড়া মাথার ‘লুক’ একটি ছবির প্রয়োজনে করা হয়েছে।
ক্যাটরিনা কইফের সন্তান জন্মের পর ওজন নিয়ে সমাজমাধ্যমে যে ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে, তারও সমালোচনা করেন সলমন। তাঁর বক্তব্য, সন্তান জন্মের পরে শরীরে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। অভিনেত্রী যখন কাজে ফিরবেন, তখন নিজের মতো করে ফের ফিট হয়ে উঠবেন। আপাতত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রোলারদের নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছিলেন সলমন। অন্যকে ছোট করে বা অপমান করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা মানুষদের তিনি ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—তারকাদের নিয়ে মতামত থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটাক্ষ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই মন্তব্যের পরেই বিবেকের সমর্থন বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, তাঁদের মধ্যে বহু বছর ধরেই প্রকাশ্য তিক্ততার ইতিহাস রয়েছে। ২০০৩ সালে ঐশ্বর্যা রায়ের সঙ্গে বিবেকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে আসে। সে সময় সাংবাদিক বৈঠক করে বিবেক অভিযোগ করেছিলেন, সলমন তাঁকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। সলমন অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে সেই সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন বিবেক। অতীতের সেই অধ্যায় নিয়ে অভিনেতা জানিয়েছেন, এখন পিছন ফিরে তাকালে তাঁর সেই সময়ের আচরণকে অপরিণত বলেই মনে হয়। সময়ের সঙ্গে সেই তিক্ততা কাটিয়ে উঠেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তাই এত বছর পর সলমনের একটি বক্তব্যের সঙ্গে বিবেকের প্রকাশ্যে একমত হওয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুই অভিনেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত কটাক্ষ এবং নেতিবাচক ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে দু’জনের অবস্থান এ ক্ষেত্রে একই সুরে মিলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।