চোখের পাতায় হলুদ দানা? জ়্যানথেলাসমা হলে কী ভাবে কমবে, জানুন চিকিৎসার উপায়

চোখের পাতায় হলুদ দানা? চোখের পাতার উপর বা চারপাশে ছোট ছোট হলুদাভ দানা বা চ্যাপ্টা মাংসল অংশ দেখা যাচ্ছে? সাধারণত এগুলিতে ব্যথা বা চুলকানি থাকে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের…

September 21, 2026
1 min read

চোখের পাতায় হলুদ দানা?

চোখের পাতার উপর বা চারপাশে ছোট ছোট হলুদাভ দানা বা চ্যাপ্টা মাংসল অংশ দেখা যাচ্ছে? সাধারণত এগুলিতে ব্যথা বা চুলকানি থাকে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের হলুদ জমাটকে বলা হয় ‘জ়্যানথেলাসমা’। ত্বকের নীচে ফ্যাট বা কোলেস্টেরলজাত পদার্থ জমে এমন দাগ তৈরি হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রেই জ়্যানথেলাসমা ক্ষতিকর নয়। তবে এর সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরল বা অন্য লিপিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। আবার কোলেস্টেরল স্বাভাবিক থাকলেও কারও কারও জ়্যানথেলাসমা হতে পারে। তাই চোখের পাতায় এমন দাগ দেখা দিলে শুধু বাইরে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

শুধু কোলেস্টেরল কমালেই কি দাগ চলে যায়?

রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও দিতে পারেন।

তবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এলেই চোখের পাতার পুরনো জ়্যানথেলাসমা সম্পূর্ণ ভাবে মিলিয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় দাগ থেকে যায়। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্যগত কারণে নয়, আকার বাড়লে বা চোখের পাতায় অস্বস্তি তৈরি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়।

কী ভাবে জ়্যানথেলাসমা সরানো হয়?

১. রাসায়নিক পিল:
ট্রাইক্লোরোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (TCA) নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসক নিয়ন্ত্রিত ভাবে আক্রান্ত অংশে প্রয়োগ করেন। পরে ওই জায়গায় খোসা তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে সেরে ওঠে। চোখের খুব কাছের ত্বক হওয়ায় এটি নিজে থেকে ব্যবহার করা বিপজ্জনক।

২. লেজ়ার চিকিৎসা:
কার্বন ডাই-অক্সাইড বা অন্য উপযুক্ত লেজ়ার দিয়ে জমাট অংশ সরানো যেতে পারে। দাগের আকার ও গভীরতা অনুযায়ী চিকিৎসক পদ্ধতি বেছে নেন।

৩. ক্রায়োথেরাপি:
কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা ব্যবহার করে আক্রান্ত কোষ নষ্ট করা হয়। তবে চোখের পাতার সূক্ষ্ম ত্বকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায় বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান জরুরি।

৪. রেডিয়োফ্রিকোয়েন্সি:
নির্দিষ্ট যন্ত্রের সাহায্যে জ়্যানথেলাসমার অংশ সরানোর একটি পদ্ধতি এটি। ক্ষত ছোট রাখার সুবিধা থাকতে পারে।

৫. সার্জিক্যাল এগ্জ়িশন:
দাগ বড় হলে বা চোখের পাতার গঠনে প্রভাব ফেললে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা বাদ দেওয়া হতে পারে। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত, তা নির্ভর করে দাগের আকার, গভীরতা এবং অবস্থানের উপর।

চোখের পাতায় নতুন কোনও হলুদ দাগ বা গুটি দেখা দিলে নিজে থেকে অ্যাসিড, ক্রিম বা ঘরোয়া কোনও উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। চোখের আশপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রথমে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কারণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ পথ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *