ওজন ঝরিয়ে নিজেকে বদলে ফেলেছেন বলিউডের এই তারকারা!
রুপোলি পর্দায় চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও ওজন বাড়াতে হয়, কখনও আবার সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে হয় শরীরের গড়ন। বলিউডের একাধিক তারকা সেই কঠিন পথ পেরিয়ে নজর কেড়েছেন। কেউ কয়েক মাসে অনেকটা ওজন ঝরিয়েছেন, কারও ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তন এসেছে কয়েক বছর ধরে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের গল্প আলাদা।
ভূমি পেডনেকর-এর বলিউডে অভিষেকই হয়েছিল অন্য রকম চেহারায়। ‘দম লগা কে হইশা’-র জন্য তাঁর ওজন বেড়ে হয়েছিল প্রায় ৯২ কেজি। পরের ছবির জন্য প্রায় ৩৬ কেজি কমান তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রিয় খাবার একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নানা ধরনের শরীরচর্চার উপর জোর দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
রাম কাপুর-এর ওজন কমানোর পরিবর্তনও ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৮ মাসে প্রায় ৫৫ কেজি ওজন কমানোর কথা জানিয়েছিলেন অভিনেতা। তাঁর খাদ্যাভ্যাসে নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়া এবং দীর্ঘ সময় না খাওয়ার বিষয়টি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমন পদ্ধতি সবার শরীরের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।
অদনান সামি-এর ক্ষেত্রে পরিবর্তনের মাত্রা আরও বড়। এক সময় তাঁর ওজন প্রায় ২৩০ কেজি ছিল। পরে প্রায় ১২০ কেজি ওজন কমান তিনি। অস্ত্রোপচার নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও অদনান নিজে জানিয়েছেন, পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে খাদ্যাভ্যাস বদলেই এই পরিবর্তনের পথে এগিয়েছিলেন।
অর্জুন কাপুর অভিনয়ে আসার আগে প্রায় ১৪০ কেজি ওজনের ছিলেন বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ডায়েট, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে প্রায় ৯০ কেজির কাছাকাছি ওজন নামান। তাঁর ওজন নিয়ে লড়াইয়ের পিছনে স্বাস্থ্যগত কারণের কথাও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন।
সোনাক্ষী সিনহা-ও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে, ধারাবাহিক পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। প্রায় ৯৫ কেজি থেকে ৬৫ কেজিতে আসার কথা জানিয়েছেন তিনি। পিলাটিজ়, শরীরচর্চা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ছিল তাঁর রুটিনের অংশ।
সারা আলি খান-এর ওজন এক সময় প্রায় ৯৬ কেজি পর্যন্ত হয়েছিল। পরে নিয়মিত শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের মাধ্যমে তা অনেকটাই কমিয়ে আনেন। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের সঙ্গে লড়াইয়ের কথাও অভিনেত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন।
শেহনাজ গিল প্রায় ছয় মাসে ১২ কেজি ওজন কমানোর কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর ক্ষেত্রে শরীরচর্চার তুলনায় খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা সামনে এসেছে। বাড়ির তৈরি খাবার এবং পর্যাপ্ত জল খাওয়ার উপর জোর দিয়েছিলেন তিনি।
এই তারকাদের অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ওজন কমানোর যাত্রা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। বয়স, শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদ্ধতিও বদলায়। তাই তারকাদের ব্যক্তিগত ডায়েট বা রুটিন সরাসরি অনুসরণ না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।