শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে?
শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য শুধু পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট নয়, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পড়াশোনা, মোবাইল-ট্যাব এবং স্কুলব্যাগের চাপে অনেক শিশুর দৈনন্দিন জীবনে খেলাধুলার সময় কমে যাচ্ছে। তার সঙ্গে জাঙ্ক ফুড ও প্যাকেটজাত খাবারের অভ্যাস যোগ হওয়ায় অপুষ্টি, রক্তাল্পতা এবং বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই সুষম খাবারের পাশাপাশি বয়স উপযোগী সহজ স্ট্রেচিং বা যোগাসন শিশুর দৈনন্দিন রুটিনে রাখা যেতে পারে। তবে কোনও ব্যায়ামেই জোর করে শরীর টানানো উচিত নয়।
১. ক্যাট স্ট্রেচ বা মার্জারাসন
মেরুদণ্ড, কাঁধ ও বুকের পেশির নমনীয়তা বাড়াতে এই স্ট্রেচটি করা যায়। প্রথমে মেঝেতে হাত ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে হামাগুড়ির ভঙ্গিতে থাকতে হবে। হাতের তালু থাকবে কাঁধের নীচে এবং হাঁটু থাকবে কোমরের নীচে।
এ বার ধীরে শ্বাস নিয়ে পিঠ উপরের দিকে বাঁকাতে হবে। কয়েক সেকেন্ড সেই অবস্থানে থেকে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আগের ভঙ্গিতে ফিরতে হবে। ব্যায়ামের সময় কনুই ও কাঁধ অযথা বাঁকানো উচিত নয়।
২. ফরওয়ার্ড বেন্ডিং স্ট্রেচ
পায়ের পেশি ও শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এই স্ট্রেচটি উপকারী হতে পারে। মেঝেতে সোজা হয়ে বসে দুই পা সামনে ছড়িয়ে দিন। এর পর ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে দুই হাত দিয়ে পায়ের আঙুল ধরার চেষ্টা করতে হবে।
প্রথম দিনেই পায়ের আঙুল ছোঁয়ার চেষ্টা করে জোর দেওয়া যাবে না। শরীর যতটা স্বাভাবিক ভাবে যায়, ততটাই ঝুঁকতে হবে। নিয়মিত অনুশীলনে নমনীয়তা বাড়তে পারে।
৩. বাটারফ্লাই পোজ়
শিশুদের জন্য সহজ এই স্ট্রেচিংয়ে দুই পায়ের পাতা পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে বসতে হবে। দুই হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরে হাঁটুকে ধীরে ধীরে উপর-নীচে করতে হবে।
নিয়মিত অভ্যাসে পায়ের পেশির নমনীয়তা ও শরীরের ভারসাম্য উন্নত হতে পারে। তবে শিশুর ব্যথা হলে বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে।
শুধু ব্যায়াম নয়, খাবারেও নজর
শিশুর ওজন বা উচ্চতা বাড়ানোর জন্য কোনও একটি ব্যায়ামকে জাদুকরী সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খেলাধুলা এবং বয়স অনুযায়ী শারীরিক সক্রিয়তা—সবকিছুর সমন্বয়ই সুস্থ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর ওজন বা উচ্চতা বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক না হলে কিংবা অপুষ্টির লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনও ডায়েট বা ব্যায়াম শুরু না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।