‘জঙ্গি মডিউল তৈরির চেষ্টা’!
ভাঙড়ে জঙ্গি মডিউল তৈরির চেষ্টার অভিযোগে ধৃত জানাদুল বেগকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে পানাপুকুর এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ সময় ঘরেই থাকতেন জানাদুল। তবে মাঝেমধ্যে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বাইরের লোকজন আসত।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জানাদুল ওই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন জুন্নাতুল কিবরিয়া নামে। শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির এক কর্মাধ্যক্ষের মাধ্যমে বাড়িওয়ালা নজরুল মোল্লার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয় বলে অভিযোগ। সেই কারণে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় জানাদুলের কাছ থেকে আধার কার্ডও নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
জানাদুল নিজেকে মালদহের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী মারা গিয়েছেন এবং কোনও সন্তান নেই। একাই থাকেন। স্থানীয়দের চোখে তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ, শান্ত স্বভাবের এক মধ্যবয়সি ব্যক্তি।
ঘরের বাইরে খুব একটা বেরোতেন না
প্রতিবেশীদের দাবি, দিনের অধিকাংশ সময় জানাদুল ঘরেই থাকতেন। আগে ল্যাপটপ ব্যবহার করলেও সম্প্রতি তাঁকে প্রায় সব সময় মোবাইলে ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত। এলাকায় তিনি দাবি করতেন, অনলাইনে ব্যবসা করেন। তবে কী ধরনের ব্যবসা, তা স্পষ্ট ভাবে কেউ জানতেন না।
এক পা টেনে হাঁটতেন জানাদুল। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ পড়তেন এবং সপ্তাহে দু’দিন রোজা রাখতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। তাঁর এই জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় বিশেষ সন্দেহ তৈরি হয়নি।
তবে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, মাঝেমধ্যে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বাইরের লোকজন আসত। সেই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাতভর তল্লাশি, উদ্ধার মোবাইল-নথি
রবিবার রাতে ভাঙড়ের পানাপুকুরে জানাদুলের ভাড়াবাড়িতে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। রাত ১১টা নাগাদ শুরু হওয়া তল্লাশি চলে প্রায় রাত আড়াইটে পর্যন্ত। তাঁর ঘর থেকে মোবাইল ফোন, বেশ কিছু নথিপত্র এবং একটি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাসপোর্টটির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত রয়েছে। সেটি তদন্তকারীরা বাজেয়াপ্ত করেছেন।
একই অভিযানে বিড়লাপুর থেকে সফিক শেখ নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে কী অভিযোগ?
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, জানাদুল এবং তাঁর সহযোগীরা ‘মুঘলে আজ়ম’ ও ‘জিহাদ-ই-সবিবিল্লাহ’ নামে সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভারতবিরোধী প্রচার চালাতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের অভিযোগ, আল কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি জঙ্গি মডিউল তৈরির চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। সেই উদ্দেশ্যে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে যুবকদের নিয়োগ এবং অস্ত্র জোগাড়ের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তবে এই অভিযোগগুলির সম্পূর্ণ সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। জানাদুলের ভাড়াবাড়িতে তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থান, পরিচয় গোপন করার অভিযোগ এবং বাইরের লোকজনের আনাগোনা— সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।