১৫ অগস্ট শুধু ছুটির দিন নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস মনে করারও বিশেষ দিন। তাই এ বার স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে সপরিবারে এমন কয়েকটি জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন, যেগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলার বিপ্লবীদের স্মৃতি।
Table of Contents
স্বাধীনতা দিবসে দিন-সফরের পরিকল্পনা করছেন? কলকাতা ও আশপাশে রয়েছে ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একাধিক জায়গা। ছবি: সংগৃহীত।
১. মাতঙ্গিনী হাজার স্মৃতিধন্য তমলুক
5
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার স্মৃতি। ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সময় তমলুক থানা ও আদালত দখলের অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।
হোগলা গ্রামে রয়েছে তাঁর জন্মস্থান ও স্মৃতি কুটির। তমলুক থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে আলিনান গ্রামেও রয়েছে তাঁর স্মৃতিচিহ্ন এবং সংগ্রহশালা। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও মাতঙ্গিনীকে শ্রদ্ধা জানাতে এখানে এসেছিলেন।
সময় থাকলে তমলুক রাজবাড়ি, শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ, মিউজ়িয়াম, বর্গভীমা মন্দির এবং রূপনারায়ণের পাড়ও ঘুরে নিতে পারেন।
যাবেন কী ভাবে: হাওড়া থেকে ট্রেনে তমলুক যাওয়া যায়। সড়কপথেও গাড়ি বা বাসে পৌঁছনো সম্ভব। তমলুকে গিয়ে টোটো বা অটো নিয়ে আশপাশের জায়গাগুলি ঘোরা সুবিধাজনক।
২. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত দুই বাড়ি
5
কলকাতার ৩৮/২, এলগিন রোডের বাড়িটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতির সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িত। ব্রিটিশদের চোখ এড়িয়ে ছদ্মবেশে দেশ ছাড়ার আগে এই বাড়ি থেকেই তিনি বেরিয়েছিলেন। বর্তমানে এখানে রয়েছে মিউজ়িয়াম। নেতাজির ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, চিঠি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিলও সংরক্ষিত রয়েছে।
এর পর যেতে পারেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামের কোদালিয়ায়। সেখানে রয়েছে সুভাষচন্দ্রের প্রপিতামহের ভিটে। শৈশবে দুর্গাপুজোর সময় এই বাড়িতে তাঁর আসার স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ দিনগুলিতে বাড়িটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা হয়।
যাবেন কী ভাবে: নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন থেকে এলগিন রোডের বাড়িতে হাঁটাপথে যাওয়া যায়। কোদালিয়ার বাড়িতে যেতে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেনে সুভাষগ্রাম স্টেশনে নেমে অটো বা টোটো নিতে পারেন।
৩. অরবিন্দ ভবন
১৫ অগস্টের সঙ্গে অরবিন্দ ঘোষের সম্পর্কও ঐতিহাসিক। ১৮৭২ সালের ১৫ অগস্টই জন্মেছিলেন অরবিন্দ ঘোষ। অর্থাৎ তাঁর জন্মদিন এবং ভারতের স্বাধীনতা দিবস একই দিনে।
৮, শেক্সপিয়র সরণিতে তাঁর জন্মভিটে ঘুরে দেখতে পারেন। বাগানঘেরা বাড়িটিতে রয়েছে পাঠাগার, অরবিন্দের ব্যবহৃত ও রচিত নানা সামগ্রী, বই এবং ধ্যানকক্ষ। অন্দরমহলে তাঁর দেহাবশেষও সংরক্ষিত রয়েছে।
যাবেন কী ভাবে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে বাসে থিয়েটার রোড বা বিড়লা তারামণ্ডল এলাকায় নেমে হাঁটতে পারেন। সরাসরি ক্যাব বা ট্যাক্সিতেও পৌঁছনো যায়।
৪. শরৎচন্দ্রের সামতাবেড়ের বাড়ি
4
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে দেশাত্মবোধ জাগাতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর ‘পথের দাবি’-র মতো রচনায় স্বাধীনতা আন্দোলন, বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের ছবি উঠে এসেছে।
দেউলটির কাছে পানিত্রাসের সামতাবেড় গ্রামে রয়েছে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। জীবনের শেষ কয়েক বছর এখানে কাটিয়েছিলেন কথাশিল্পী। তাঁর লেখার টেবিল থেকে ব্যবহৃত ঘড়ি— বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।
পাশাপাশি রূপনারায়ণ নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। দেউলটির রাধা-মদনগোপাল মন্দিরের টেরাকোটার কাজও দেখার মতো।
যাবেন কী ভাবে: হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেনে দেউলটি স্টেশনে নেমে অটো নিতে পারেন। গাড়িতে গেলে রাস্তা ফাঁকা থাকলে প্রায় দেড় থেকে দু’ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
৫. আলিপুর জেল মিউজ়িয়াম
7
স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে চাইলে আলিপুর জেল মিউজ়িয়াম রাখতে পারেন তালিকায়। ব্রিটিশ আমলের আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের একাংশ বর্তমানে মিউজ়িয়ামে পরিণত হয়েছে।
এই জেলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু, অরবিন্দ ঘোষ, জওহরলাল নেহরু, বিধানচন্দ্র রায়, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, দীনেশ গুপ্ত-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের বন্দিজীবনের বিভিন্ন নিদর্শন এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। সন্ধ্যার পরে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়।
যাবেন কী ভাবে: যতীন দাস বা নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন থেকে অটো বা টোটোয় যাওয়া যায়। আলিপুরগামী বাসে ন্যাশনাল লাইব্রেরি স্টপেজে নেমেও পৌঁছনো সম্ভব।
১৫ অগস্টের ছোট্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা: একদিনে বেশি জায়গা না ঘুরে কলকাতার মধ্যে নেতাজি ভবন + অরবিন্দ ভবন + আলিপুর জেল মিউজ়িয়াম বেছে নিতে পারেন। আর শহরের বাইরে দিন-সফর চাইলে তমলুক বা দেউলটি-সামতাবেড় তুলনামূলক ভাল বিকল্প। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্থানের বিশেষ দিনের খোলার সময় ও প্রবেশের নিয়ম যাচাই করে নেওয়া ভাল।রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।