এ বার ট্রেনেই রাশিয়া থেকে ভারত! মস্কোর নয়া প্রস্তাবে বদলাতে পারে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যপথ

এ বার ট্রেনেই রাশিয়া থেকে ভারত! ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্ব এ বার আরও একটি নতুন মাত্রা পেতে পারে। নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত…

August 10, 2026
1 min read

এ বার ট্রেনেই রাশিয়া থেকে ভারত!

ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্ব এ বার আরও একটি নতুন মাত্রা পেতে পারে। নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিনের বক্তব্যে সামনে এসেছে এই পরিকল্পনা।

রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খুসনুলিন জানিয়েছেন, বসফরাস ও হরমুজ় প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের উপর নির্ভরতা কমাতে স্থলপথে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হলে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন একটি পথ খুলে যেতে পারে।

খুসনুলিনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য রুটটি তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে। ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য যে কোনও কার্যকর বিকল্প পথ বিবেচনা করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা। বসফরাস কৃষ্ণসাগরকে মারমারা সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং তুরস্কের নিয়ন্ত্রণাধীন এই পথটি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে নানা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে হরমুজ় প্রণালী নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাণিজ্যের বিকল্প পথ হিসেবে ভারত নর্দার্ন সি রুট বা আর্কটিক রুট নিয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে।

তবে ভারত পর্যন্ত নতুন রেলপথের প্রস্তাব সম্পূর্ণ নতুন কোনও ভাবনা নয়। রাশিয়া ও ইরান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ বারান্দা বা আইএনএসটিসি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ২০০২ সালে ভারত, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে চুক্তি হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল মুম্বই থেকে রাশিয়া হয়ে ইউরোপের বাজার পর্যন্ত পণ্য পরিবহণের জন্য একটি বিকল্প স্থল ও রেলপথ তৈরি করা।

এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ‘মিসিং লিঙ্ক’ হল ইরানের রাশ্‌ত ও আস্তারার মধ্যে প্রস্তাবিত রেলপথ। প্রায় ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশটি সম্পূর্ণ হলে আইএনএসটিসির যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। পুরো করিডরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,২০০ কিলোমিটার। এর মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান রাশ্‌ত-আস্তারা রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০ বছরের অংশীদারি চুক্তি করে। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ১৬০ কোটি ইউরো ব্যয়ের কথা জানানো হয়েছে এবং পুরো অর্থ রাশিয়াই দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে কাজের বড় অংশ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে মস্কোর।

তবে এই দীর্ঘ রেলপথ বাস্তবায়নের পথে চ্যালেঞ্জও কম নয়। রাশ্‌ত ও আস্তারার মধ্যবর্তী দুর্গম ভূপ্রকৃতিতে রেললাইন তৈরি করা কঠিন। তার উপর ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রকল্পের কাজকে ভবিষ্যতে প্রভাবিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

ফলে রাশিয়ার নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে ঠিকই, কিন্তু তার আগে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, একাধিক দেশের সহযোগিতা এবং বিপুল পরিমাণ পরিকাঠামোগত বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলি সামলাতে হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *