হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি বুঝতে কোন ৩ পরীক্ষা জরুরি?
বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক ঘাম— এমন উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই প্রথমে ইসিজি করান। কিন্তু রিপোর্ট স্বাভাবিক এলেই যে হৃদ্যন্ত্র পুরোপুরি সুস্থ, এমনটা নাও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ইসিজি হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা দেয়, তবে সব ধরনের হৃদ্রোগের ঝুঁকি এই পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।
দিল্লি এমসের চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসিজি মূলত হৃদ্স্পন্দনের ছন্দ এবং বৈদ্যুতিক তরঙ্গের পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে। কিন্তু হৃদ্যন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ব্লকেজ থাকলেও পরীক্ষার সময়ে অস্বাভাবিকতা ধরা না পড়লে ইসিজি স্বাভাবিক আসতে পারে। তাই ঝুঁকি বুঝতে আরও কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট
রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন বা সিআরপি-র মাত্রা শরীরে প্রদাহের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআরপি-র মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকির সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এই পরীক্ষার ফল একা দেখে হৃদ্রোগের ঝুঁকি নিশ্চিত করা যায় না।
সিক্স মিনিট ওয়াকিং টেস্ট
শরীরের সহনশীলতা এবং হাঁটার সময়ে কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ হচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য ছয় মিনিট হাঁটার পরীক্ষা করা হয়। হাঁটার সময়ে বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি হচ্ছে কি না, সেগুলিও নজরে রাখা হয়। প্রতিবেদনে ৬০ বছরের কম বয়সি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ছয় মিনিটে প্রায় ৪০০-৭০০ মিটার হাঁটার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনফ্ল্যামেটরি মার্কার টেস্ট
ধমনিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা পেতে বিভিন্ন ইনফ্ল্যামেটরি মার্কার পরীক্ষা করা যেতে পারে। প্রতিবেদনে ৪০ বছর বয়সের পর এই ধরনের পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি রুটিন ইসিজি, লিপিড প্রোফাইল, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম এবং ফাস্টিং ব্লাড সুগারও প্রয়োজন অনুযায়ী করানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন পরীক্ষা কার জন্য প্রয়োজন, তা বয়স, উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস এবং অন্যান্য ঝুঁকির উপর নির্ভর করে। তাই শুধু একটি স্বাভাবিক ইসিজি রিপোর্টের ভিত্তিতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।