‘হাসিনা কার্ড’ খেললে বন্ধুত্ব নিয়ে ভাবতে হবে!
শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতর। ভারত বার বার জানাচ্ছে, ওই কর্মসূচির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও যোগ ছিল না। কিন্তু ঢাকার অসন্তোষ কমছে না। বরং এ বার সরাসরি নয়াদিল্লিকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ শনিবার বলেন, ভারত যদি হাসিনাকে ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেয়, তা হলে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, এক দিকে ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে অন্য দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাওয়া—দুই বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।
২০২৪ সালের অগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা। পরে তিনি ভারতে চলে আসেন এবং এখনও সেখানেই রয়েছেন। এর মধ্যে গত বুধবার দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে দুই দেশের সম্পর্কে।
তবে ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, ওই সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজনের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে হয়েছিল। সেখানে যা বলা হয়েছে, তার দায় বা বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।
কিন্তু ঢাকার বক্তব্য একেবারেই আলাদা। সাংবাদিক বৈঠকের আগে থেকেই বাংলাদেশের তরফে দিল্লির কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এমনকি, ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকেও ডেকে পাঠিয়ে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল ঢাকা। সাংবাদিক বৈঠকের পর বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ভারতের মাটিতে হাসিনার এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।
এর পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও জোরালো করেছে ঢাকা। বাংলাদেশের দাবি, তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য একাধিক বার ভারতের কাছে অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। অন্য দিকে, হাসিনা নিজেই জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও এক বার ভারতকে অনুরোধ করেন, হাসিনার ‘বাংলাদেশবিরোধী’ কর্মকাণ্ডে যেন নয়াদিল্লি কোনও ধরনের সমর্থন না দেয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই বজায় রাখতে চায়।
মাঝে অবশ্য দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলানোর চেষ্টা হয়েছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যায়। দুই দেশই সহযোগিতার বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু হাসিনার সাম্প্রতিক সাংবাদিক বৈঠক সেই প্রক্রিয়াতেই ফের অস্বস্তির ছায়া ফেলেছে।
শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবালও নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, সাংবাদিক বৈঠকটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। মঞ্চে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিক সরকার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তা ভারত সমর্থন করে না।
তবু ঢাকার অসন্তোষ কাটেনি। ফলে হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক টানাপড়েন আপাতত আরও কিছু দিন চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।