মোদী–সুখবীর বৈঠকে জোট জল্পনা!
পঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে বিজেপি এবং শিরোমণি অকালি দলের সম্ভাব্য পুনর্মিলন ঘিরে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিংহ বাদলের প্রায় আধঘণ্টার বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— ছয় বছরের দূরত্ব কি শেষ হতে চলেছে? যদিও বৈঠক শেষে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবু এই সাক্ষাৎকে ঘিরে জোট রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রের তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের প্রতিবাদে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল শিরোমণি অকালি দল। সেই সময় সুখবীর বাদলের স্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল মন্ত্রিসভা থেকেও ইস্তফা দেন। কৃষক আন্দোলনের আবহে দুই পুরনো মিত্রের সম্পর্ক কার্যত ভেঙে যায়।
তবে এরপর একা লড়াই করে কোনও দলই উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। ২০২২ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে শিরোমণি অকালি দল মাত্র তিনটি আসনে জয় পায়। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংহের পঞ্জাব লোক কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও বিজেপি মাত্র দু’টি আসন জিততে সক্ষম হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দুই দল আলাদা লড়ে হতাশাজনক ফল করে। ১৩টি আসনের মধ্যে অকালি দল মাত্র একটি আসন জেতে, যেখানে জয়ী হন হরসিমরত কউর। বিজেপির ঝুলি ছিল শূন্য। কংগ্রেস সাতটি এবং আম আদমি পার্টি একটি আসনে জয়লাভ করে, পাশাপাশি দু’টি আসনে জয়ী হন খলিস্তানপন্থী নির্দল প্রার্থীরা।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও মণিপুরের পাশাপাশি পঞ্জাবেও ভোট হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ এখন থেকেই গুরুত্ব পাচ্ছে। পরপর নির্বাচনী ব্যর্থতার পর বিজেপি এবং অকালি দল আবার একজোট হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বিভক্ত বিরোধিতার বদলে যৌথভাবে লড়াই করলে দুই দলেরই রাজনৈতিক লাভ হতে পারে।
তবে সুখবীর বাদলের সামনে দলের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রায় দেড় বছর আগে মতবিরোধের জেরে অকাল তখতের প্রাক্তন জাঠেদার জ্ঞানী হরপ্রীত সিংহ, শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির প্রাক্তন প্রধান বিবি জাগির কউর, প্রাক্তন সাংসদ প্রেম সিংহ চান্দুমাজরা এবং প্রাক্তন বিধায়ক গুরপ্রতাপ সিংহ ওয়াডলার মতো একাধিক প্রভাবশালী নেতা দল ছেড়ে পৃথক গোষ্ঠী গঠন করেন। ফলে রাজনৈতিকভাবে সুখবীরের অবস্থান আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সুখবীর বাদলের বৈঠক ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি, তবুও পঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনের আগে বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দলের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।