মেরি কমকে আদর্শ মেনে ইতিহাস গড়লেন ফতিমা!
ভারতের কিংবদন্তি বক্সার মেরি কম শুধু দেশের ক্রীড়াবিদদেরই নয়, সীমান্তের ওপারেও বহু তরুণ বক্সারের অনুপ্রেরণা। সেই তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের ফতিমা জ়াহরা। কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের প্রথম মহিলা বক্সার হিসেবে পদক জিতে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বক্সিং জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা মেরি কম।
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের সরগোধায় বেড়ে ওঠা ফতিমার কাছে শুরুতে অনুসরণ করার মতো কোনও মহিলা বক্সার ছিলেন না। তাই তিনি অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছিলেন ভারতের ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেরি কমের মধ্যে। শুধু রিংয়ে তাঁর সাফল্যই নয়, কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসার গল্পও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে ফতিমাকে।
ফতিমা জানান, মেরি কমের জীবন অবলম্বনে নির্মিত বলিউডের জীবনীচিত্রও তিনি দেখেছেন। বক্সিং শুরু করার পর সেই ছবিটি বারবার দেখে অনুশীলনের উৎসাহ পেয়েছেন। তাঁর কথায়, একদিন মেরির মতো কৃতিত্ব অর্জন করাই তাঁর স্বপ্ন।
মণিপুরের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আর্থিক সংকট, সামাজিক বাধা এবং পরিকাঠামোর অভাব কাটিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য অর্জন করেছিলেন মেরি কম। অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ, একাধিক বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে তিনি নারী বক্সিংয়ের অন্যতম বড় মুখ হয়ে ওঠেন। সেই লড়াইয়ের গল্পই ফতিমাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।
ফতিমার নিজের পথও সহজ ছিল না। তিনি জানান, তাঁর পরিবারে আগে কেউ বক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। শুরুতে পরিবারের সমর্থনও পাননি। অনুশীলনে যেতে বাধা দেওয়া হতো। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে নিজের সাফল্যের মাধ্যমে পরিবারের মন জয় করেছেন। এখন তাঁর প্রতিটি ম্যাচের সময় পরিবারের সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন।
কমনওয়েলথ গেমসে পদক জয়ের পর ফতিমার বিশ্বাস, তাঁর এই সাফল্য পাকিস্তানের আরও অনেক তরুণীকে বক্সিংয়ে আসার সাহস দেবে। সীমান্তের দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক যাই হোক না কেন, খেলাধুলা যে অনুপ্রেরণার কোনও সীমারেখা মানে না, মেরি কম এবং ফতিমা জ়াহরার এই গল্প যেন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।