তাপসী পন্নুর জন্মদিনে শুটিংয়ের অজানা স্মৃতি ভাগ করলেন মুমতাজ সরকার
অভিনেত্রী তাপসী পন্নুর জন্মদিনে তাঁর সঙ্গে কাজের স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী মুমতাজ সরকার। ‘সাবাশ মিথু’ ছবিতে তাপসী যেখানে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি মিতালি রাজের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, সেখানে ঝুলন গোস্বামীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল মুমতাজকে। সেই ছবির শুটিং চলাকালীন কাটানো মুহূর্তগুলিই এবার স্মৃতিচারণ করলেন তিনি।
মুমতাজ জানান, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরেই প্রথম তাপসীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। চিত্রনাট্য পাঠের দিন থেকেই তাপসীর কাজের প্রতি একাগ্রতা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। তাঁর কথায়, সবাই যখন স্ক্রিপ্ট শুনছিলেন, তখন তাপসী সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। স্ক্রিপ্ট রিডিং শেষ হওয়ার পরেই দু’জনের প্রথম আলাপ এবং সেখান থেকেই শুরু হয় পরিচয়।
করোনা মহামারির কঠিন সময়ে প্রায় দু’বছর ধরে চলে ছবির শুটিং। কখনও মুম্বই, কখনও হায়দরাবাদ— লকডাউন, বিধিনিষেধ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছিল গোটা টিমকে। এমনও সময় এসেছে, যখন হোটেলেই আটকে থাকতে হয়েছিল তাঁদের। সেই সময়েই তাপসীর সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিল বলে জানান মুমতাজ।
তাঁর মতে, তাপসীর সবচেয়ে বড় গুণ তাঁর পেশাদারিত্ব। নিজের দৃশ্যের জন্য যেমন পরিশ্রম করতেন, তেমনই সহ-অভিনেতাদের সংলাপের কিউ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমান মনোযোগী ছিলেন। শুটিংয়ের আগে বারবার সংলাপ মুখস্থ করা, মহড়া দেওয়া এবং চরিত্রে নিজেকে নিখুঁতভাবে তৈরি করার চেষ্টা— সবই নিয়মিত করতেন তিনি।
ছবিটি যেহেতু ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে, তাই দীর্ঘদিন অনুশীলনও করতে হয়েছিল অভিনেতাদের। কলকাতার বিবেকানন্দ পার্কে অনুশীলনের পাশাপাশি মুম্বইয়ে শুটিং চলাকালীন প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় মাঠে নেমে ট্রেনিং করতেন তাঁরা। মুমতাজের কথায়, ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যে মিতালি ও ঝুলনের বন্ধুত্ব তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে তিনি ও তাপসী একসঙ্গে ব্যাটিং করেছিলেন। পরে সম্পাদনার সময় সেই দৃশ্যের কিছু অংশ বাদ গেলেও, সেই মুহূর্ত তাঁর কাছে আজও অন্যতম প্রিয় স্মৃতি।
সেটের বাইরেও তাপসীর একটি অভ্যাস আজও ভোলেননি মুমতাজ। তিনি জানান, ইউনিটের খাবার কারও পছন্দ না হলে তাপসী প্রায়ই সবার জন্য সুশি অর্ডার করতেন। অন্যদিকে মুমতাজ, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং শীর্ষ গুহঠাকুরতা প্রায়ই বাঙালি খাবার— মাছ-ভাতের খোঁজ করতেন। খাবারের পছন্দ আলাদা হলেও, সেই আড্ডা এবং একসঙ্গে খাওয়ার মুহূর্তগুলো আজও তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে রয়েছে।
শুটিং চলাকালীনই একবার মুমতাজের জন্মদিন পড়েছিল। সেই দিন গোটা ইউনিটের সঙ্গে তাপসীও উদযাপনে যোগ দিয়েছিলেন। মুমতাজের মতে, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় উপহারগুলোর একটি।
ছবি মুক্তির পর আর তাঁদের দেখা হয়নি। শেষবার লন্ডনে শুটিং চলাকালীন একসঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন তাঁরা। শুটিংয়ের শেষ দিন একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে বিদায় নিয়েছিলেন।
তাপসীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুমতাজ বলেন, তিনি চান তাপসী সবসময় এমনই থাকুন। একজন অভিনেতা হিসেবে চরিত্রের জন্য যে নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং আত্মনিবেদন তাপসী দেখান, তা অন্য শিল্পীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা নিয়ে আরও অনেক স্মরণীয় কাজ উপহার দেবেন তাপসী পন্নু।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?