তেজসের ইঞ্জিন এলেও ডেলিভারিতে দেরি কেন?
ভারতের হালকা যুদ্ধবিমান তেজস মার্ক-১এ প্রকল্পে বড় অগ্রগতি এসেছে। মার্কিন সংস্থা জিই অ্যারোস্পেস অবশেষে এফ-৪০৪ জেট ইঞ্জিনের প্রথম চালান হস্তান্তর করেছে। তবে ইঞ্জিন হাতে এলেই যে যুদ্ধবিমান দ্রুত ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে পৌঁছে যাবে, এমনটা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও একাধিক প্রযুক্তিগত ও সরবরাহ-সংক্রান্ত বাধা কাটাতে হবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-কে।
ইঞ্জিনের জট কাটলেও চ্যালেঞ্জ শেষ নয়
তেজস প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি ছিল জিই-র এফ-৪০৪ ইঞ্জিন সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব। এই দেরির জেরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিমান হস্তান্তর সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সাতটি ইঞ্জিন ভারতে পৌঁছেছে এবং বছরের শেষে আরও ইঞ্জিন সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে জিই।
হ্যালের দাবি, সময়মতো বাকি ইঞ্জিন মিললে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে তেজস মার্ক-১এ-র প্রথম পূর্ণ স্কোয়াড্রন ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
কেন এখনও দেরির আশঙ্কা?
বিশ্লেষকদের মতে, ইঞ্জিন এখন আর একমাত্র বাধা নয়। তেজস মার্ক-১এ-তে ব্যবহৃত উন্নত AESA (Active Electronically Scanned Array) রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) স্যুট এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
যুদ্ধবিমানের রাডারই শত্রুকে শনাক্ত করা, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। তাই রাডার, অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্ভুল সমন্বয় ছাড়া বিমানকে পূর্ণ যুদ্ধ-প্রস্তুত বলা যায় না।
রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের পরীক্ষা
তেজস মার্ক-১এ-তে ইজরায়েলের তৈরি অত্যাধুনিক AESA রাডার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ডিআরডিও-র তৈরি ‘অঙ্গদ’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট বিমানটিকে শত্রুর রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র এড়াতে সহায়তা করবে।
এই তিনটি ব্যবস্থার—রাডার, EW স্যুট এবং ক্ষেপণাস্ত্র—সমন্বিত কার্যক্ষমতাকে সামরিক পরিভাষায় ‘সেন্সর ফিউশন’ বলা হয়। এই সমন্বয়ের জন্য এখনও একাধিক উড়ান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন বাকি রয়েছে।
বিদেশি যন্ত্রাংশের উপর নির্ভরতা
তেজস মার্ক-১এ-র প্রায় ৪০ শতাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আসে। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা রপ্তানি বিলম্বের প্রভাব সরাসরি উৎপাদনের গতিতে পড়তে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইঞ্জিন নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সময়মতো সরবরাহও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় বায়ুসেনার প্রয়োজন
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে প্রায় ২৯টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য দুই-মুখী সংঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজন অন্তত ৪২–৪৩টি স্কোয়াড্রন। সেই ঘাটতি পূরণে তেজস প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২১ সালে বায়ুসেনা ৮৩টি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দেয়। পরে আরও ৯৭টি যুদ্ধবিমানের বরাত দেওয়া হয়। ফলে আগামী কয়েক বছরে এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন নজর কোথায়?
ইঞ্জিন সরবরাহ শুরু হওয়ায় তেজস প্রকল্পে নতুন গতি এলেও, যুদ্ধবিমানগুলিকে সম্পূর্ণ যুদ্ধোপযোগী করতে রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, অস্ত্র সংযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাজ দ্রুত শেষ করাই এখন হ্যাল ও ডিআরডিও-র সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই পরীক্ষাগুলি সফলভাবে সম্পন্ন হলেই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে নতুন প্রজন্মের দেশীয় যুদ্ধবিমান দ্রুত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?