সেবাশ্রয় বিতর্কে বড় পদক্ষেপ!
সেবাশ্রয় শিবিরে ব্যবহারের জন্য অনুমতি ছাড়াই আলট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) মেশিন স্থানান্তরের অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালির একটি বেসরকারি ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তদন্তে উঠে এসেছে, নির্ধারিত প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ক্লিনিক থেকে ইউএসজি মেশিন অন্যত্র সরানো হয়েছিল, যা প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের সামিল বলে মনে করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
কীভাবে সামনে এল ঘটনা?
গত ২৩ জুলাই নোদাখালির ওই ক্লিনিকে পরিদর্শনে যান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। তাঁরা ইউএসজি মেশিনের নথিপত্র এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি। আরও দেখা যায়, ইউএসজি কক্ষ থাকলেও সেখানে কোনও মেশিন নেই।
এরপর স্বাস্থ্য দফতর মেশিনটির অবস্থান জানতে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, মেশিনটি ডায়মন্ড হারবারের কাপাহাট এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং পরে ডায়মন্ড হারবার থানার মালখানায় রাখা হয়েছে।
অনুমতি ছাড়াই স্থানান্তরের অভিযোগ
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, ইউএসজি মেশিন অন্যত্র সরানোর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়।
২৮ জুলাই জেলা স্বাস্থ্য দফতরে আয়োজিত শুনানিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নাকি স্বীকার করেন যে প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়াই মেশিনটি স্থানান্তর করা হয়েছিল। এরপরই সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেবাশ্রয় বিতর্কে নতুন মাত্রা
সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, প্রি-কনসেপশন অ্যান্ড প্রি-ন্যাটাল ডায়াগনস্টিক টেকনিক (PCPNDT) আইন মেনে না চলেই বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন বাইরে নিয়ে গিয়ে রোগীদের পরীক্ষা করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবেই নোদাখালির ক্লিনিকে পরিদর্শন চালানো হয়েছিল বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র
সেবাশ্রয় কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও জোরদার হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই আবহে নোদাখালির ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সেবাশ্রয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?