জাল ওএমআর শিটে নিট মামলার অভিযোগ, কঠোর অবস্থান কলকাতা হাই কোর্ট; পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে ছাড়পত্র

জাল ওএমআর শিটে নিট মামলার অভিযোগ, কঠোর অবস্থান কলকাতা হাই কোর্ট! নিট (NEET-UG) পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় বড় মোড়। আদালতে জমা পড়া…

July 31, 2026
1 min read

জাল ওএমআর শিটে নিট মামলার অভিযোগ, কঠোর অবস্থান কলকাতা হাই কোর্ট!

নিট (NEET-UG) পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় বড় মোড়। আদালতে জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখে দেখা যায়, কয়েকটি মামলায় জাল ওএমআর শিট ও বিকৃত স্কোরকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এর পরই কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিংহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

কীভাবে সামনে এল কারচুপির অভিযোগ?

কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ তুলে একাধিক পরীক্ষার্থী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত এনটিএ-র কাছে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের ফলাফল ও নথি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে।

সেই রিপোর্টেই উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য। এনটিএ জানায়, কয়েকটি মামলায় আদালতে জমা দেওয়া ওএমআর শিট ও স্কোরকার্ড আসল নয়। এমনকি এক পরীক্ষার্থী তিনটি ভিন্ন ফলাফল জমা দিয়ে মামলা করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি ২০২৫ সালের স্কোরকার্ড পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন, যা সম্পূর্ণ জাল।

তিন বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে অভিযুক্ত

এনটিএ আদালতে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁকে আগামী তিন বছর এনটিএ-র পরীক্ষায় বসতে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে।

অন্য এক মামলায় এক পরীক্ষার্থী দাবি করেছিলেন, তাঁর ফলে ৩৭০ নম্বরের হেরফের হয়েছে। তদন্তে সেই অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে জানায় পরীক্ষক সংস্থা। আদালতে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর ওই পরীক্ষার্থী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

আদালতের কড়া মন্তব্য

সব তথ্য সামনে আসার পর বিচারপতি অমৃতা সিংহ পর্যবেক্ষণে বলেন, জাল নথি ব্যবহার করে আদালতকেও প্রতারিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি খারিজ করে দেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আইনজীবীরাও পড়েছেন অস্বস্তিতে

এই ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন মামলাকারীদের আইনজীবীরাও। তাঁদের বক্তব্য, ক্লায়েন্ট যে নথি জমা দেন, তা সব সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। ফলে আদালতে জাল নথি ধরা পড়লে আইনজীবীদেরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই ইতিমধ্যে এমন মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বা জুনিয়র আইনজীবীদের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার করেছেন।

কেন বাড়ছে এমন মামলা?

আইনজীবীদের একাংশের মতে, জাল নথি ব্যবহার করে মামলা করার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় পরীক্ষাপদ্ধতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীরা অন্য পেশায় যেতে চাইলেও পারিবারিক চাপে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসে পরে ফলাফল নিয়ে ভুয়ো দাবি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মধ্যেই এই ঘটনায় আদালতের কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে ভুয়ো নথি দিয়ে মামলা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *