পাঁচ বছরে ৩০০% বেড়েছে শতকোটিপতির সংখ্যা!
ভারতে দ্রুত বাড়ছে উচ্চ আয়ের করদাতার সংখ্যা। সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরি জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে বছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় দেখানো করদাতার সংখ্যা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে, ধনকুবেরদের মোট সম্পদের আলাদা কোনও সরকারি তথ্যভান্ডার বর্তমানে সংরক্ষণ করা হয় না।
সংসদে দেওয়া লিখিত জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ মূল্যায়ন বছরে (Assessment Year) আয়কর রিটার্নে বছরে ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি আয় দেখিয়েছেন ৫৭৬ জন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৪১৫। আর ২০২১-২২ মূল্যায়ন বছরে এমন করদাতার সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪২। সেই হিসাবেই গত পাঁচ বছরে এই শ্রেণির করদাতার সংখ্যা প্রায় চার গুণ হয়েছে।
সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মূল্যায়ন বছরে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৩০১। পরের বছর সামান্য কমে ২৮৪ হলেও, তার পর আবার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ সালে ৪১৫ এবং ২০২৫-২৬ সালে ৫৭৬-এ পৌঁছেছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও স্পষ্ট করেছেন পঙ্কজ চৌধরি। তাঁর বক্তব্য, ‘বিলিয়নিয়ার’ বা শতকোটিপতি শব্দটির কোনও নির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা আয়কর আইনে নেই। তাই সংসদে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা মূলত আয়কর রিটার্নে বছরে ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি আয় দেখানো করদাতাদের ভিত্তিতে তৈরি।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালে সম্পদ কর (Wealth Tax) আইন বাতিল হওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগত মোট সম্পদের তথ্য সরকার আলাদাভাবে সংগ্রহ করে না। ফলে দেশের ধনীদের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ বা বছরে তার পরিবর্তনের সরকারি পরিসংখ্যানও নেই।
সংসদে আয়-বৈষম্য সম্পর্কেও কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের দাবি, ২০২৩-২৪ সালের হাউসহোল্ড কনজাম্পশন এক্সপেনডিচার সার্ভে (HCES) অনুযায়ী গ্রামীণ ও শহর— উভয় ক্ষেত্রেই গিনি কো-এফিশিয়েন্ট কমেছে, যা ভোগব্যয়ের বৈষম্য কিছুটা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
একই সঙ্গে শ্রমবাজার সম্পর্কেও ইতিবাচক ছবি তুলে ধরে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ২০২২ সালে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের বেকারত্বের হার ছিল ৩.৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ৩.১ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ২৪.৮২ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্রসীমার বাইরে এসেছেন।
অর্থ মন্ত্রকের মতে, করব্যবস্থার সংস্কার, নতুন ও পুরনো— দুই ধরনের আয়কর কাঠামো, স্টার্টআপে উৎসাহ এবং বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। যদিও অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র আয়কর রিটার্নের তথ্যের ভিত্তিতে দেশের প্রকৃত ধনী বা শতকোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সরকারি সম্পদ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় এই পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত বলে ধরা যায় না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?