৫৫-এ নতুন লড়াই মনীষা কৈরালার
ক্যানসারের মতো কঠিন লড়াই জিতে আবার অভিনয়ে সফল প্রত্যাবর্তন করেছেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। এখন তাঁর বয়স ৫৫। জীবনের এই পর্যায়ে এসে শরীরের পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য নিয়ে যে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতাই এবার অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তিনি।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টে মনীষা জানিয়েছেন, এটি শুধু শরীরচর্চার গল্প নয়, বরং নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার যাত্রা। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সুস্থ জীবনযাপনের নানা মুহূর্ত শেয়ার করলেও তিনি স্বীকার করেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন মেনে নেওয়া তাঁর কাছেও সহজ ছিল না।
অভিনেত্রীর কথায়, একসময় তিনি ওজন কমানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও ওজনের কাঁটা নড়ছিল না। প্রথমে ভেবেছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই ফল মিলবে, কিন্তু তা না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি হতাশ হয়ে কেঁদেও ফেলেছিলেন।
এরপর চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি জানতে পারেন, বয়সের সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) এবং হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ওজন কমানো আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে যায়। সেই ব্যাখ্যা তাঁকে নতুন করে বাস্তবতা মেনে নিতে সাহায্য করে।
মনীষা বলেন, আগের মতো শরীর হয়তো আর কখনও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তাই বলে হাল ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং নিজের বয়স, শরীর এবং সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়েই সুস্থ থাকার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যে একসময় নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট যত্ন নেননি। এখন সেই ভুল শুধরে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং ইতিবাচক মানসিকতার উপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।
নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, এখনও হয়তো লক্ষ্যে পৌঁছতে অনেকটা পথ বাকি, কিন্তু তিনি আশাবাদী। আগের তুলনায় শরীর অনেকটাই সুস্থ হয়েছে এবং প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি হচ্ছে। তাঁর বিশ্বাস, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত সাফল্য এনে দেয়।
অনুরাগীদের উদ্দেশে মনীষার বার্তা স্পষ্ট— বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীর বদলানো স্বাভাবিক। ওজন দ্রুত না কমলে বা কাঙ্ক্ষিত ফল না মিললেও হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।
মনীষার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই তাঁর সততা এবং লড়াইয়ের মানসিকতাকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?