কৃতি সেননের উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য!!
উজ্জ্বল, কোমল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পেতে যে সব সময় দামি প্রসাধনীর প্রয়োজন হয় না, তার অন্যতম উদাহরণ বলিউড অভিনেত্রী কৃতি সেনন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক অভ্যাস এবং নিয়মিত পরিচর্যাই ত্বকের আসল সৌন্দর্য ধরে রাখে। সম্প্রতি নিজের সকালের স্কিনকেয়ার রুটিন শেয়ার করে অনুরাগীদের জানিয়েছেন, কীভাবে মাত্র কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করেই তিনি ত্বককে রাখেন সতেজ ও দীপ্তিময়।
কৃতির দিনের শুরু হয় একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দিয়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি প্রথমে ঈষদুষ্ণ জলে লেবু মিশিয়ে পান করেন। শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি এটি দিনের শুরুটা সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে। এরপর শুরু হয় তাঁর সাত ধাপের ত্বকচর্চা।
১. বরফ-ঠান্ডা জলে মুখ ডুবিয়ে রাখা
মুখ পরিষ্কার করার পর কৃতি কয়েক সেকেন্ডের জন্য বরফ-ঠান্ডা জলে মুখ ডুবিয়ে রাখেন। এতে ঘুমের রেশ দ্রুত কাটে, মুখের ফোলাভাব কমে এবং ত্বক অনেক বেশি টানটান ও সতেজ দেখায়। ঠান্ডা জল সাময়িকভাবে রক্তসঞ্চালনে পরিবর্তন এনে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
২. প্রয়োজন অনুযায়ী ফেস মাস্ক
শুটিং থাকলে তিনি ডিটক্সিফাইং ফেস মাস্ক ব্যবহার করেন। তবে ত্বক সংবেদনশীল থাকলে, বিশেষ করে ঋতুস্রাবের সময়, হাইড্রেটিং ফেস মাস্কই তাঁর পছন্দ। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং জ্বালাভাব কমে।
৩. আন্ডার-আই প্যাচ
গ্রিন টি ও ক্যাফিনসমৃদ্ধ আন্ডার-আই প্যাচ ব্যবহার করেন কৃতি। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ফেস মাস্কের সঙ্গে এটি লাগিয়ে রাখেন। এতে চোখের নীচের ফোলাভাব ও ক্লান্তির ছাপ অনেকটাই কমে যায়।
৪. ঘরোয়া টোনার
মাস্ক ও প্যাচ সরানোর পর তিনি গ্লিসারিন এবং গোলাপজল দিয়ে তৈরি একটি ঘরোয়া টোনার স্প্রে করেন। গ্লিসারিন ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, আর গোলাপজল এনে দেয় শীতল ও সতেজ অনুভূতি।
৫. পুষ্টিকর সিরাম
এরপর ব্যবহার করেন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, আলফা আরবুটিন ও অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ সিরাম। এই উপাদানগুলো ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট রাখে, পাশাপাশি ধীরে ধীরে দাগছোপ কমাতেও সাহায্য করে।
৬. সানস্ক্রিনই ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প
কৃতির রুটিনে সিরামের পর আলাদা করে ময়েশ্চারাইজার নেই। তিনি সরাসরি হাইড্রেটিং উপাদানযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন। এটি যেমন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে, তেমনি প্রয়োজনীয় আর্দ্রতাও বজায় রাখে।
৭. লিপবাম দিয়ে শেষ যত্ন
ত্বকচর্চার শেষ ধাপ ঠোঁটের যত্ন। কৃতি নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার করেন এবং সারাদিনই প্রয়োজনমতো ঠোঁটে তা লাগান, যাতে ঠোঁট নরম ও আর্দ্র থাকে।
কৃতির এই রুটিনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর সরলতা। ব্যয়বহুল বা জটিল কোনও পদ্ধতির বদলে তিনি গুরুত্ব দেন নিয়মিত পরিচর্যা, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষাকে। তাই সঠিক ত্বকচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে কৃতির এই সাত ধাপের রুটিন অনেকের কাছেই সহজ ও কার্যকর অনুপ্রেরণা হতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?