ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রথম লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান কোচ দিমপেরিস!
ভারতের বড় ক্লাবে প্রথম দায়িত্ব, আর অভিষেক ম্যাচই কলকাতা ডার্বি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক কোচের উপরেই চাপ তৈরি হতে পারত। কিন্তু মোহনবাগানের নতুন কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস একেবারেই অন্য সুরে কথা বললেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁর কাছে আলাদা করে কোনও ম্যাচের গুরুত্ব নেই— প্রতিটি ম্যাচই ডার্বি, আর প্রতিটিতেই লক্ষ্য একটাই, জয়।
ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে গ্রিক কোচ বলেন, কলকাতায় আসার পর থেকেই সবাই ডার্বির গুরুত্ব বোঝাচ্ছেন তাঁকে। সেই আবহ তাঁকে রোমাঞ্চিত করলেও তিনি আবেগে ভাসতে চান না।
দিমপেরিস বলেন, “ডার্বি দিয়েই যাত্রা শুরু করতে পারছি, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। মোহনবাগানের ইতিহাস, সমর্থকদের আবেগ— সবই আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। তবে আমি সব ম্যাচকেই একই চোখে দেখি। আমার কাছে প্রতিটা দিনই ডার্বি, প্রতিটা অনুশীলনও ডার্বি।”
তিনি আরও জানান, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা দল হোক বা একেবারে নিচের সারির দল— প্রস্তুতি এবং মানসিকতায় কোনও পরিবর্তন আনেন না তিনি। ফুটবলই তাঁর জীবনের কেন্দ্র, তাই প্রতিটি ম্যাচে একই রকম গুরুত্ব দেন।
তবে আত্মবিশ্বাসী হলেও দলের প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ লুকোননি মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, এত কম সময়ে একটি দলকে পুরোপুরি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে ফুটবলারদের ম্যাচ ফিটনেস এখনও শতভাগ নয় বলেই মনে করছেন তিনি।
দিমপেরিস বলেন, “খেলোয়াড়েরা এখনও পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো প্রস্তুত নয়। আরও কিছু বিষয়ে উন্নতি প্রয়োজন। কিন্তু সেই জন্য কাউকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। মাত্র কয়েকটি অনুশীলনে কোনও দলকে পুরো বদলে ফেলা যায় না।”
তিনি জানান, ভারতের ফুটবল সম্পর্কে তিনি অচেনা নন। গত দু’বছর পঞ্জাব এফসি-র দায়িত্বে থাকার সুবাদে ভারতীয় ফুটবলারদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর বিশ্বাস, মোহনবাগানের দেশি ও বিদেশি ফুটবলারদের মান যথেষ্ট উঁচু এবং সেই কারণেই দলকে নিয়ে তিনি আশাবাদী।
নিজের ফুটবল দর্শনও পরিষ্কার করে দিয়েছেন দিমপেরিস। তিনি বল নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতে বিশ্বাসী। বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং করে তা ফের দখলে নেওয়া এবং সুযোগ পেলেই গতিময় আক্রমণ গড়ে তোলাই তাঁর পরিকল্পনা।
তাঁর কথায়, “আমি আধুনিক, আগ্রাসী ফুটবল পছন্দ করি। বল আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই। বল হারালে সঙ্গে সঙ্গে চাপ সৃষ্টি করে তা ফের জিততে হবে। আবার বল পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠতে হবে। তবে এগুলো এক-দু’দিনে শেখানো যায় না। সময় লাগবে।”
সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ডার্বিতে দলের কাছ থেকে লড়াকু মানসিকতা এবং শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশাই রাখছেন মোহনবাগানের নতুন কোচ। তাঁর বিশ্বাস, নিখুঁত না হলেও দল এমন ফুটবল খেলবে, যা সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলবে এবং জয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?