যে প্রশ্নফাঁস আন্দোলন একদিন ধর্মেন্দ্রকে পরিচিতি দিয়েছিল, আজ সেই ইস্যুতেই তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব ছাত্ররা

যে প্রশ্নফাঁস আন্দোলন একদিন ধর্মেন্দ্রকে পরিচিতি দিয়েছিল! নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পড়ুয়াদের একাংশ। এই আবহেই সামনে…

July 23, 2026
1 min read

যে প্রশ্নফাঁস আন্দোলন একদিন ধর্মেন্দ্রকে পরিচিতি দিয়েছিল!

নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পড়ুয়াদের একাংশ। এই আবহেই সামনে এসেছে প্রায় তিন দশক আগের এক রাজনৈতিক অধ্যায়, যেখানে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

১৯৯৭ সালে কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকীবল্লভ পট্টনায়ক। সেই সময় একটি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। ভুবনেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি কয়েক হাজার পড়ুয়ার বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনের জেরে রাজ্য সরকার প্রবল চাপের মুখে পড়েছিল।

ধর্মেন্দ্র তখন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র সক্রিয় নেতা। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র হিসেবে তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দু’দফায় সংগঠনের জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্বও সামলান। প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তাঁর নেতৃত্ব সেই সময় তাঁকে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে তাঁর উত্থানের পথ আরও সুগম হয়।

সেই সময়ের আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরেছেন ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রশান্ত রাউত। তিনিও উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। তাঁর কথায়, শুরুতে আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। রাউতের দাবি, সেই আন্দোলনে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল। তবুও তিনি আন্দোলনের ময়দান ছাড়েননি।

রাউত আরও জানান, নব্বইয়ের দশকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। বিরোধী ছাত্র সংগঠনের হামলারও মুখে পড়তে হয়েছিল ধর্মেন্দ্রকে। তাঁর মতে, ছাত্রজীবনের সেই আন্দোলনই ধর্মেন্দ্রর সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেয়।

পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান ধর্মেন্দ্র প্রধান। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এ দিকে, চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় ২১ জুন পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে সেই সিদ্ধান্তেও বিতর্ক থামেনি। পরীক্ষা পরিচালনাকারী ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও অনশন শুরু করেছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে পুলিশের লাঠিচার্জ ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সংসদের বাদল অধিবেশনেও এই ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত তীব্র হয়েছে। একদিকে সরকার আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার যথেষ্ট দায়বদ্ধতা দেখাতে পারেনি। ফলে প্রশ্নফাঁস ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপ এখনও অব্যাহত।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *