শাহরুখ শেষ সুপারস্টার নন!
বলিউডে ‘শেষ সুপারস্টার’ কে— এই বিতর্ক নতুন নয়। বহু বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, “আমিই শেষ সুপারস্টার।” সেই মন্তব্য আজও আলোচনায় ফিরে আসে। তবে সম্প্রতি প্রবীণ অভিনেতা অন্নু কপূর সেই ধারণার সঙ্গে একমত নন বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে অন্নু কপূর বলেন, চলচ্চিত্র জগতে প্রায় প্রতিটি প্রজন্মেই কাউকে না কাউকে ‘শেষ সুপারস্টার’ বলা হয়েছে। রাজেশ খন্নার সময়েও একই ধরনের দাবি উঠেছিল। কিন্তু সময় প্রমাণ করেছে, তার পরেও একাধিক কিংবদন্তি শিল্পী ভারতীয় সিনেমায় নিজেদের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন।
তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা অর্জনের চেয়ে সেটি দশকের পর দশক ধরে ধরে রাখা অনেক বেশি কঠিন। উদাহরণ হিসেবে তিনি অমিতাভ বচ্চন, লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের নাম উল্লেখ করেন। অন্নুর বক্তব্য, তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবন এবং ধারাবাহিক প্রাসঙ্গিকতার নজির আজও বিরল।
শাহরুখ খানের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করেই অন্নু বলেন, যাঁর কথা সবাই বলছেন, তিনি ১৯৯২ সালের দিকে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। অর্থাৎ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সফল। তবে অমিতাভ বচ্চনের কর্মজীবন ৫০ বছরেরও বেশি। সেই তুলনায় এখনও অনেকটা পথ বাকি। তাঁর প্রশ্ন, ২০৪৫ সালেও কি একই রকম জনপ্রিয় এবং প্রাসঙ্গিক থাকতে পারবেন সেই অভিনেতা? অন্নুর মতে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
তবে শাহরুখের সাফল্য বা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেননি তিনি। বরং কিং খানের আর্থিক সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের অন্যতম ধনী অভিনেতাদের মধ্যে শাহরুখের নাম রয়েছে, যা নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন।
অন্নু কপূরের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর আবারও শুরু হয়েছে ‘সুপারস্টার’ শব্দটির সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা। অনেকের মতে, সুপারস্টার হওয়ার মানদণ্ড শুধু বক্স অফিস নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মনে জায়গা ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, শাহরুখের অনুরাগীদের দাবি, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা, একাধিক ব্লকবাস্টার এবং বিশ্বজোড়া ভক্তসমাজ তাঁকে ইতিমধ্যেই এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
ফলে ‘শেষ সুপারস্টার’ কে— সেই বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং অন্নু কপূরের মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?