সাকার হ্যাটট্রিকের রাতেও ইতিহাস গড়লেন এমবাপে!
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে এতটা নাটকীয় হবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি। গোলের বন্যা, হ্যাটট্রিক, রেকর্ড ভাঙা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড। ম্যাচে মোট ১০টি গোল হওয়ায় এটি টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হয়ে রইল।
প্রথম থেকেই ঝড় তোলে ইংল্যান্ড। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে ডেকলান রাইস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান বাড়ান এজ়রি কনসা। এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার শো। ৩৭ মিনিটে প্রথম গোল করার পর বিরতির ঠিক আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধে ফ্রান্সের রক্ষণ কার্যত ছন্নছাড়া ছিল। পরিবর্তিত ডিফেন্স বারবার ইংল্যান্ডের দ্রুত আক্রমণের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের ভাগ্য বিরতির আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ছবিটা। কোচ দিদিয়ের দেশঁ একসঙ্গে চারজন নিয়মিত ফুটবলার নামাতেই ফ্রান্সের খেলায় আমূল পরিবর্তন আসে। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে গোল করে প্রত্যাবর্তনের সূচনা করেন। এরপর ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বার্কোলা ব্যবধান কমান।
৬৬ মিনিটে আবার গোল করেন এমবাপে। এই গোল শুধু ম্যাচে ফ্রান্সকে ফিরিয়ে আনেনি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছে। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, যা লিয়োনেল মেসির ২১ গোলকে ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড।
এমবাপের জোড়া গোলের ফলে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০। অন্যদিকে মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল। ফলে সোনার বুটের দৌড়েও অনেকটাই এগিয়ে গেলেন ফরাসি তারকা।
তবে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নে শেষ পর্যন্ত জল ঢেলে দেন বুকায়ো সাকা। জেড স্পেন্সকে ফাউল করায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে এই পারফরম্যান্স তাঁকে ম্যাচের নায়ক করে তোলে।
সংযুক্তি সময়ে উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের চতুর্থ গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষদিকে জুড বেলিংহ্যামের গোল ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে।
এই হারের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশঁর অধ্যায়েরও ইতি ঘটল। অন্যদিকে ব্রোঞ্জ পদক জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল ইংল্যান্ড।
ফলাফল:
- ইংল্যান্ড ৬-৪ ফ্রান্স
- ইংল্যান্ডের গোল: ডেকলান রাইস, এজ়রি কনসা, বুকায়ো সাকা (৩), জুড বেলিংহ্যাম
- ফ্রান্সের গোল: কিলিয়ান এমবাপে (২), ব্র্যাডলি বার্কোলা, উসমান দেম্বেলে
রোমাঞ্চ, রেকর্ড এবং প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য মিশেলে বিশ্বকাপের এই ম্যাচ দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে থেকে যাবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?