আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে বুলডোজ়ার অভিযান!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিশাল পুলিশবাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী, দমকল এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতে শুরু হয় ভবনের একটি অংশ ভাঙার কাজ। প্রথমে বুলডোজ়ার দিয়ে কার্যালয়ের সামনের নীল রঙের শেড ভেঙে ফেলা হয়। পরে ধাপে ধাপে পাঁচতলা ভবনের সামনের দেওয়াল ভাঙার কাজও শুরু করে প্রশাসন।
প্রশাসনের দাবি, ভবনটি অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগেই সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত শুনানিতে কেউ হাজির না হওয়ায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
শনিবার সকালেই বিডিও, বিএলআরও, দমকল এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুলডোজ়ার পৌঁছনোর পর প্রথমে কার্যালয়ের সামনে থাকা অস্থায়ী কাঠামো সরানো হয়। পরে মূল ভবনের সামনের অংশে ভাঙার কাজ শুরু হয়।
অভিযান চলাকালীন বহু কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। কয়েক জন ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়লেও পুলিশ তাঁদের দ্রুত বাইরে বের করে দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের তরফে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেখানে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, মতি মল্লিক এবং সুশান্ত মণ্ডলকে ১৫ জুলাই নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিসে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ডিরেক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। অভিযোগ, নির্ধারিত দিনে কেউ উপস্থিত না হওয়ায় প্রশাসন ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এ ধরনের অভিযান এই প্রথম নয়। চলতি বছরের মে মাসেও কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন মাঠপুকুর এলাকায় একটি তৃণমূল কার্যালয় বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ওই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেখানে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলত।
আমতলার এই অভিযান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা ঘটনাকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, শাসকদলের একাংশের মতে, এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, সমস্ত পদক্ষেপ আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?