বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার ঘিরে নতুন বিতর্ক!
বিশ্বকাপ থেকে আমেরিকার বিদায় হলেও ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার নিয়ে বিতর্ক থামছে না। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে বিষয়টি জানানোই হয়নি। সেই অভিযোগ ঘিরেই ফুটবল মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে।
বসনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বালোগুনের খেলার কথা ছিল না। তবে পরে তাঁর লাল কার্ড প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি মাঠে নামার সুযোগ পান। এই সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার ১৮ সদস্যের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির মধ্যে মাত্র একজন সদস্যের সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। অভিযোগ, বাকি ১৭ সদস্যের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি। আরও দাবি করা হয়েছে, সাধারণত এ ধরনের বিষয়ে তিন সদস্যের একটি প্যানেল সিদ্ধান্ত নিলেও এই ক্ষেত্রে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মহম্মদ আল-কামালি একাই সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এই বিতর্কে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই বালোগুনের শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প নিজে দাবি করেছেন, তিনি শুধুমাত্র সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন, কোনও নির্দেশ দেননি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর মতে ঘটনাটি লাল কার্ডের মতো গুরুতর ফাউল ছিল না। তিনি শুধু ভিডিওটি আবার দেখে সিদ্ধান্ত মূল্যায়নের অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর দাবি, এটি ছিল দুই ফুটবলারের স্বাভাবিক সংঘর্ষ, এর বেশি কিছু নয়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি কোনও রাষ্ট্রনেতার হস্তক্ষেপের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তা হলে তা ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে। অতীতের উদাহরণও সামনে আনা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে লরাঁ ব্লাঁ এবং ২০০২ সালে জার্মানির মাইকেল বালাক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি। সে সময় কোনও রাষ্ট্রনেতার হস্তক্ষেপ বা বিশেষ ছাড়ের নজির দেখা যায়নি।
তবে এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবিই সামনে এসেছে। ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং নিয়ম মেনে সবকিছু হয়েছে কি না, তা নিয়েই বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপ শেষ হলেও বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?