সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের দুশ্চিন্তা এমবাপের চোট!
মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ের পরেও স্বস্তিতে নেই দিদিয়ের দেশঁর শিবির। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপের গোড়ালির চোট এখন চিন্তার কারণ। একই সঙ্গে ম্যাচে তাঁর পেনাল্টি মিস নিয়েও আলোচনা চলছে ফুটবল মহলে।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে পারেননি এমবাপে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ১৩ মিনিট আগে তাঁকে তুলে জাঁ-ফিলিপ মাতেতাকে নামান দেশঁ। ম্যাচ চলাকালীন একাধিকবার গোড়ালি ধরে বসে পড়তে দেখা যায় ফরাসি তারকাকে। তবু তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ফ্রান্সের কোচিং স্টাফ।
যদিও ম্যাচ শেষে এমবাপে নিজেই আশ্বস্ত করেছেন সমর্থকদের। তাঁর দাবি, চোট গুরুতর নয়। গোড়ালিতে সামান্য আঘাত লেগেছে, তবে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। পাশাপাশি তিনি জানান, শেষ মুহূর্তে মাতেতাকে নামানো ছিল পুরোপুরি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, কারণ ওই সময়ে সতেজ ফুটবলার দলের বেশি উপকার করতে পারতেন।
তবে ম্যাচের একটি মুহূর্ত এখনও আলোচনায়— প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এমবাপে। মরক্কোর ডিফেন্ডার নৌসের মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) দীর্ঘ পর্যালোচনার কারণে সিদ্ধান্ত জানাতে তিন মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যায়। এরপর স্পটকিক নিতে এসে দুর্বল শট মারেন এমবাপে, যা সহজেই আটকান মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো।
ম্যাচ শেষে কোচ দেশঁ বলেন, এত দীর্ঘ অপেক্ষার পর পেনাল্টি নেওয়া যে কোনও ফুটবলারের জন্যই কঠিন। যদিও তিনি এটিকে অজুহাত হিসেবে মানতে চাননি। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি খেলাধুলারই অংশ এবং এগুলো সামলে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পেনাল্টি মিস নিয়ে একেবারেই বিচলিত নন এমবাপে। তাঁর বক্তব্য, দলের জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত ভুল নিয়ে অতিরিক্ত ভাবলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেমিফাইনালে ওঠাই এখন দলের সবচেয়ে বড় অর্জন, আর সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলদাতা উসমান দেম্বেলেও আত্মসমালোচনার সুর শোনান। তিনি স্বীকার করেন, জয় এলেও দলের খেলার মান আরও উন্নত হওয়া দরকার। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের আরও নিখুঁত করতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলগত লক্ষ্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এখন ফরাসি শিবিরের নজর সেমিফাইনালের দিকে। এমবাপের চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি কৌতূহল। কারণ, স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়াই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?