ইংল্যান্ড সফরে ভারতের হতাশার হ্যাটট্রিক!
ইংল্যান্ড সফরে ভারতের দুঃস্বপ্ন যেন থামছেই না। একের পর এক একই ভুলের পুনরাবৃত্তি, ব্যাটিং ও বোলিং— দুই বিভাগেই ধারাবাহিক ব্যর্থতা, আর তারই খেসারত দিতে হল আরও একবার। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে সহজেই ভারতকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিল ইংল্যান্ড। ফলে একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হার নিশ্চিত হল শ্রেয়স আয়ারের দলের।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ১৫৮/৭। এই লক্ষ্য ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে খুব একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠেনি। মাত্র একটি উইকেট হারিয়েই অনায়াসে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা। ভারতের বোলাররা শুরু থেকেই কোনও চাপ তৈরি করতে পারেননি, ফলে ম্যাচ কার্যত একপেশেই হয়ে যায়।
এই সফরে ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে একই ভুল বারবার করা। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ হার থেকেই যে দুর্বলতার ইঙ্গিত মিলেছিল, ইংল্যান্ড সফরে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। কিছু দিন আগেও যে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মনে করা হত, এখন সেই দল ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষের সামনে অসহায় দেখাচ্ছে।
কোচ গৌতম গম্ভীর আগের ম্যাচের পর ‘রিসেট’-এর কথা বলেছিলেন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনও প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা নেই, বোলারদের পরিকল্পনাও কার্যকর হচ্ছে না। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই ভারত পিছিয়ে পড়ছে।
অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আয়ারের সময়টাও ভালো যাচ্ছে না। আইপিএলে সফল নেতৃত্বের পর তাঁকে জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ছয় ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখতে পেলেন না তিনি। আয়ারল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ খোয়ানোর পর তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর পারফরম্যান্সও হতাশ করেছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নজরকাড়া সাফল্যের পর তাঁকে সুযোগ দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। চারটি ম্যাচেই দ্রুত উইকেট হারিয়েছেন। এবারও জফ্রা আর্চারের শর্ট বলে আক্রমণ করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শট নির্বাচনের গুরুত্ব এখনও রপ্ত করতে পারেননি বলেই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
তবে দায় শুধু বৈভবের নয়। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অভিষেক শর্মা ভালো শুরু করেও ১৬ রানে ফিরে যান। ঈশান কিশনও মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাঝের ওভারে শিবম দুবে ও শ্রেয়স আয়ার কিছুটা লড়াই গড়ে তুললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দুবে ২২ রান করে আউট হওয়ার পর আবার ধস নামে ভারতের ইনিংসে।
একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক শ্রেয়স। চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে ৪৯ বলে অপরাজিত ৮০ রান করেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তাঁর ইনিংসও দলকে হার এড়াতে পারেনি।
এখন ভারতের সামনে একটাই লক্ষ্য— শেষ ম্যাচে অন্তত জিতে সম্মান রক্ষা করা। তবে তার জন্য ব্যাটিং, বোলিং এবং পরিকল্পনা— সব ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনতে হবে শ্রেয়স আয়ারের দলকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?