কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে চাপ বাড়াল চন্দ্রিমার ইস্তফা, তৃণমূলে প্রতীক-লড়াইয়ে নতুন মোড়

কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে চাপ বাড়াল চন্দ্রিমার ইস্তফা! রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে দলীয় নথি জমা…

July 5, 2026
1 min read

কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে চাপ বাড়াল চন্দ্রিমার ইস্তফা!

রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে দলীয় নথি জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগে এই পদক্ষেপে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। যদিও শাসকদলের একাংশের দাবি, এই পদত্যাগের কোনও আইনি প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির একে তাদের দাবির পক্ষে বড় অস্ত্র হিসেবেই তুলে ধরছে।

শনিবার ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সনের পাশাপাশি তিনিই রাজ্য সংগঠনের দায়িত্ব সামলাবেন। নতুন কোনও রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা না করায় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কমিশনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সাংগঠনিক পরিবর্তন এড়িয়ে চলার কৌশলই নিয়েছেন তিনি।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “কেউ আর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে থাকতে চাইছেন না।” তাঁর দাবি, তাঁদের কমিটি ২২ জুন গঠিত হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে। এরপর থেকে তাঁদের সংগঠনে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিপরীতে, কালীঘাট শিবিরে বারবার কমিটি বদল হচ্ছে বলেই অভিযোগ তাঁর।

বিদ্রোহী শিবিরের আর এক নেতা ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, আগে মহিলা সংগঠনের দায়িত্বে থাকা মালা রায় দল ছেড়েছেন, যুব সংগঠনের দায়িত্বে থাকা সায়নী ঘোষও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় কর্মসমিতি থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর প্রশ্ন, “যে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাই আর সেই দলে নেই, সেই কমিটির দাবি নির্বাচন কমিশন কতটা গ্রহণ করবে?”

তবে কালীঘাট শিবিরের নেতাদের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কাছে ১৫ জুন যে প্রতিনিধিদের নাম পাঠানো হয়েছে, সেখানে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে, কিন্তু চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাম নেই। পরে ২২ জুন যে পদাধিকারী ও জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে চন্দ্রিমা শুধুমাত্র একজন সদস্য ছিলেন। ফলে তাঁর পদত্যাগে কমিশনের কাছে জমা দেওয়া সাংগঠনিক কাঠামোয় কোনও আইনি জটিলতা তৈরি হবে না বলেই তাঁদের মত।

তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা ও বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, “একজনের পদত্যাগে দল বিপাকে পড়ে না। দেশের আইন মেনেই আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেব। আমরা আমাদের অবস্থান নিয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।”

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র আইনি নয়, প্রতীকী দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ভোট-পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং একাধিক নেতার দলত্যাগ বা পদত্যাগের ঘটনাকে সামনে রেখে বিদ্রোহী শিবির কমিশনের কাছে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করার চেষ্টা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এখন নজর সোমবারের দিকে। নির্বাচন কমিশনের কাছে দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথি ও সাংগঠনিক দাবির ভিত্তিতেই ঠিক হতে পারে, দলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে। সেই সিদ্ধান্তই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারণ করতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *