আরজি কর-কাণ্ডে নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ!!
আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মৃত্যুকাণ্ডে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। নির্যাতিতার ভিসেরা নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার আগে বদলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে একটি রহস্যময় চিঠি পৌঁছেছে তাঁর বাবার কাছে। সেই চিঠিকে হাতিয়ার করেই শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। আদালতের কাছে তাঁদের আবেদন, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
পরিবার জানিয়েছে, চিঠিপ্রেরকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে তিনি নিজেকে বেলগাছিয়ার রাজ্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রাক্তন কর্মী বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্যাতিতার ভিসেরা নমুনা সিবিআই এবং কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর আগে রাজ্য ফরেনসিক ল্যাবেই অদলবদল করা হয়েছিল। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে তিন জন ফরেনসিক আধিকারিক জড়িত ছিলেন এবং রাজনৈতিক নির্দেশেই এই কাজ করা হয়েছিল।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নাম উল্লেখ থাকলেও তা প্রকাশ্যে আনেনি পরিবার বা সংবাদমাধ্যম। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, অতীতেও একাধিক রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলায় ভিসেরা নমুনা বদলের মতো অনিয়ম ঘটেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হত। অভিযোগকারীর দাবি, এই সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, একই অভিযোগ-সহ দুটি চিঠি তাঁদের কাছে পৌঁছায়। প্রথমটি আসে গত ১৬ মে, দ্বিতীয়টি ২৩ মে। প্রথম চিঠি পাওয়ার পরই তাঁরা বিষয়টি সিবিআইয়ের নজরে আনেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ করা হয়নি।
নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মে মাসেই আমরা চিঠিটি সিবিআইকে দিয়েছিলাম। পরে একই অভিযোগ-সহ দ্বিতীয় চিঠিও পাই। সেখানে ভিসেরা রিপোর্ট বিকৃত করার অভিযোগের পাশাপাশি কারা এর সঙ্গে জড়িত, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আশা করছি আদালতের নির্দেশে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার পরিবর্তনের পরেও স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক কীভাবে একই পদে বহাল রয়েছেন। তাঁর মতে, এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চিঠিতে করা অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। আদালত, সিবিআই বা অন্য কোনও সরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে অভিযোগগুলি এই মুহূর্তে তদন্তসাপেক্ষ। আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের অগ্রগতির পরেই স্পষ্ট হবে, এই বিস্ফোরক দাবির পিছনে কতটা সত্যতা রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?