জার্মানির বিদায়ের পর নতুন করে VAR বিতর্ক!
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। তবে ম্যাচের ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে VAR-এর একটি সিদ্ধান্ত। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির করা একটি গোল বাতিল হওয়ায় নতুন করে প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে ফুটবলমহলে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দল ১-১ সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে জার্মানিকে এগিয়ে দেন জোনাথন তাহ। মাঠের রেফারি জালাল জায়েদ প্রথমে গোলের স্বীকৃতি দেন এবং জার্মান ফুটবলারদের উল্লাসও শুরু হয়ে যায়।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরই হস্তক্ষেপ করে VAR। ভিডিও রিপ্লে দেখে রেফারিকে জানানো হয়, গোল হওয়ার আগে জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। রিপ্লে পর্যবেক্ষণের পর রেফারি নিজের আগের সিদ্ধান্ত বদলে গোল বাতিল করেন।
এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি জার্মান ফুটবলাররা। মাঠেই তীব্র আপত্তি জানান জোশুয়া কিমিচ এবং তাঁর সতীর্থরা। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। পরে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় জার্মানির।
ম্যাচ শেষে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকের মতে, গোলরক্ষকের সঙ্গে যে সংস্পর্শ হয়েছিল, তা ফুটবলের স্বাভাবিক শারীরিক লড়াইয়ের অংশ ছিল। তাই গোল বাতিলের প্রয়োজন ছিল না।
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। বিবিসিতে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, তাঁর মতে ঘটনাটি ফাউল ছিল না। শিয়ারারের বক্তব্য, পেনাল্টি বক্সে এত খেলোয়াড় থাকলে সামান্য ধাক্কাধাক্কি স্বাভাবিক, আর গোলরক্ষক খুব সহজেই পড়ে গিয়েছিলেন।
একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন বিশ্বকাপ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা প্রাক্তন সহকারী রেফারি ড্যারেন কান। তাঁর মতে, ধাক্কাটি খুবই হালকা ছিল এবং চাইলে রেফারি সেটিকে উপেক্ষা করতে পারতেন। তবে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংস্পর্শ হওয়ায় VAR-এর পর রেফারি গোল বাতিল করার পথই বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একই ধাক্কা যদি অন্য কোনও ডিফেন্ডারের সঙ্গে হতো, তাহলে সম্ভবত গোল বাতিল করা হতো না।
গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি জার্মানি। টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জার্মানির একাধিক শট রুখে দেন। যদিও জার্মানির হয়ে ম্যানুয়েল নয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত জোনাথন তাহের শট বারের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার পর সুযোগ পেয়ে যায় প্যারাগুয়ে। হোসে কানালের সফল শটেই নিশ্চিত হয় তাদের শেষ ষোলোয় ওঠা।
প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয় যতটা প্রশংসিত হয়েছে, তার পাশাপাশি VAR-এর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা থামেনি। প্রযুক্তি কি সঠিক বিচার করেছে, নাকি জার্মানির কাছ থেকে একটি বৈধ গোল কেড়ে নিয়েছে— সেই প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?