কেন আবার কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে রন্ধনশিল্পী পঙ্কজ ভাদোরিয়াকে?
দেশের প্রথম ‘মাস্টারশেফ’ বিজয়ী পঙ্কজ ভাদোরিয়া সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে তিনি স্তন ক্যানসার-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা আশা করেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরবর্তী পরীক্ষার রিপোর্টে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে পঙ্কজ লিখেছেন, “আবার যেন সব শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে।” এই পোস্টের পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে জানা যায়, অস্ত্রোপচারের পর করা বায়োপসি রিপোর্টে তাঁর শরীরে ২ মিলিমিটার ‘ইনভেসিভ কম্পোনেন্ট’ ধরা পড়েছে।
‘ইনভেসিভ কম্পোনেন্ট’ কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ক্যানসারের কোষ যখন মূল টিউমারের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন তাকে ইনভেসিভ কম্পোনেন্ট বলা হয়।
পঙ্কজের ক্ষেত্রে মূল টিউমারটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হলেও, পরীক্ষায় দেখা যায় কিছু ক্যানসার কোষ আশপাশের টিস্যুতে থেকে গিয়েছে। এই কারণেই চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে আবার কেমোথেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন।
কেন আবার কেমোথেরাপি?
চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পরেও শরীরে অতি ক্ষুদ্র পরিমাণ ক্যানসার কোষ থেকে যেতে পারে। এগুলি ভবিষ্যতে—
- একই জায়গায় আবার ক্যানসার ফিরিয়ে আনতে পারে।
- আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে শরীরের অন্য অঙ্গেও পৌঁছে যেতে পারে।
এই সম্ভাবনা কমাতেই কেমোথেরাপি দেওয়া হয়, যাতে অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা যায় এবং রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমে।
অস্ত্রোপচারের পরও কেন নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের চিকিৎসা শুধু অস্ত্রোপচারে শেষ হয় না। অনেক সময় অতি ক্ষুদ্র ক্যানসার কোষ সাধারণ স্ক্যান বা ম্যামোগ্রাফিতেও ধরা পড়ে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ফলো-আপ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং নির্ধারিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঙ্কজ ভাদোরিয়ার ক্ষেত্রেও সেই কারণেই আবার কেমোথেরাপি শুরু হবে। এটি রোগ ফিরে এসেছে— এমনটা নিশ্চিতভাবে বোঝায় না; বরং ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে এবং অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ নির্মূল করার জন্যই এই অতিরিক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?