অর্ধশতক ধরে মহাকাশে ছুটছে ভয়েজ়ার ১, তবু মহাবিশ্বের হিসেবে এখনও ‘শুরুতেই’! কত দূর পৌঁছেছে মানুষের দ্রুততম মহাকাশযান?

অর্ধশতক ধরে মহাকাশে ছুটছে ভয়েজ়ার ১! ১৯৭৭ সালে পৃথিবী ছেড়েছিল মানুষের তৈরি ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময় ভয়েজ়ার ১। প্রায় ৫০ বছর কেটে গেলেও সেটিই এখনও মানুষের তৈরি সবচেয়ে দূরে পৌঁছনো মহাকাশযান।…

June 27, 2026
1 min read

অর্ধশতক ধরে মহাকাশে ছুটছে ভয়েজ়ার ১!

১৯৭৭ সালে পৃথিবী ছেড়েছিল মানুষের তৈরি ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময় ভয়েজ়ার ১। প্রায় ৫০ বছর কেটে গেলেও সেটিই এখনও মানুষের তৈরি সবচেয়ে দূরে পৌঁছনো মহাকাশযান। ঘণ্টায় প্রায় ৬১ হাজার কিলোমিটার (সেকেন্ডে প্রায় ১৭ কিলোমিটার) গতিতে ছুটলেও মহাবিশ্বের বিশাল পরিসরের তুলনায় তার যাত্রা এখনও মাত্র শুরু।

বর্তমানে ভয়েজ়ার ১ সূর্য থেকে প্রায় ২৫০০ কোটি কিলোমিটার দূরে রয়েছে। পৃথিবী-সূর্যের গড় দূরত্বের প্রায় ১৭০ গুণ পথ অতিক্রম করেছে সে। ২০১২ সালে সৌরজগতের প্রভাববলয়ের শেষ সীমা, অর্থাৎ হেলিয়োপজ় অতিক্রম করে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে প্রবেশ করে ইতিহাস গড়েছিল এই মহাকাশযান।

আলোকবর্ষের তুলনায় কতটা পথ পেরিয়েছে?

মহাকাশের দূরত্ব মাপা হয় আলোকবর্ষে। আলো এক বছরে যতটা পথ অতিক্রম করে, সেটাই এক আলোকবর্ষ— প্রায় ৯.৫ লক্ষ কোটি কিলোমিটার।

এই হিসেবে ভয়েজ়ার ১ এখনও মাত্র ০.০০৩ আলোকবর্ষ পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। অর্থাৎ, এক আলোকবর্ষের ১ শতাংশও নয়, মাত্র ০.৩ শতাংশেরও কম। এত দ্রুতগতির মহাকাশযানের ক্ষেত্রেও মহাবিশ্বের বিশালতা ঠিক কতটা, এই তথ্যই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

কোথায় যাচ্ছে ভয়েজ়ার?

ভয়েজ়ার ১-এর কোনও নির্দিষ্ট গ্রহ বা নক্ষত্রে পৌঁছনোর লক্ষ্য নেই। হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৪০ হাজার বছর পরে এটি গ্লিজ় ৪৪৫ নামের একটি নক্ষত্রের প্রায় ১.৬ আলোকবর্ষ দূর দিয়ে অতিক্রম করবে। সূর্যের পর সেটিই হবে দ্বিতীয় নক্ষত্র, যার এতটা কাছে পৌঁছবে ভয়েজ়ার।

এদিকে ২০২৬ সালের নভেম্বরে মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে এক আলোক-দিন দূরত্বে পৌঁছবে। তখন পৃথিবী থেকে পাঠানো একটি রেডিয়ো সঙ্কেত তার কাছে পৌঁছতে এক দিন এবং ফিরে আসতে আরও এক দিন সময় লাগবে।

কীভাবে চলছে ভয়েজ়ার?

ভয়েজ়ার ১-এ সৌরশক্তি নয়, ব্যবহার করা হয়েছে প্লুটোনিয়াম-২৩৮-এর তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে উৎপন্ন তাপশক্তি। সেই তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে চালানো হয় মহাকাশযানের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রগুলি।

যাত্রার শুরুতে এর শক্তি ছিল প্রায় ৪৭০ ওয়াট। কিন্তু প্রতি বছর প্রায় ৪ ওয়াট করে শক্তি কমছে। ফলে শক্তি বাঁচাতে নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি একে একে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই কসমিক রে এবং লো-এনার্জি চার্জড পার্টিকল সংক্রান্ত যন্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে— একটি চৌম্বক ক্ষেত্র এবং অন্যটি প্লাজমা তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করছে।

শেষ কোথায়?

আগামী এক বছরের মধ্যে অবশিষ্ট বৈজ্ঞানিক যন্ত্রগুলিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন ভয়েজ়ার ১ আর পৃথিবীতে কোনও তথ্য পাঠাতে পারবে না। কিন্তু তার যাত্রা থামবে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও কোটি কোটি বছর ধরে মহাকাশে নিজের গতিপথে এগিয়ে চলবে মানুষের এই ঐতিহাসিক দূত।

ভয়েজ়ার ১ আমাদের শিখিয়েছে, মানুষের প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মহাবিশ্ব তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত। প্রায় ৫০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার পরেও মহাজাগতিক মানচিত্রে সে এখনও যেন পথের একেবারে শুরুতেই।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *