পাকিস্তান-চিনের নজরদারির জবাবে দেশীয় ‘নেত্র’!
ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (অ্যাওয়াক্স) ‘নেত্র’ ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযানে ব্যবহারের জন্য ‘অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স’ পেয়েছে। ফলে ইজ়রায়েলি ‘ফ্যালকন’-এর পাশাপাশি এবার দেশীয় প্রযুক্তির এই অত্যাধুনিক নজরদারি বিমানও ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।
অ্যাওয়াক্স হল এমন একটি বিশেষ বিমান, যার মূল কাজ শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধির উপর দূর থেকে নজর রাখা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের বাহিনীকে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করা। একই সঙ্গে এটি আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানগুলিকে লক্ষ্য চিহ্নিত করতে, আক্রমণের পরিকল্পনা করতে এবং পুরো অভিযানের সমন্বয় সাধনেও সাহায্য করে। অর্থাৎ, এটি কার্যত আকাশে ভাসমান একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার।
ডিআরডিও-র তৈরি ‘নেত্র’ এমব্রায়ার ইআরজে-১৪৫ বিমানের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে ব্যবহৃত আধুনিক ‘অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে’ (AESA) রেডার ও সেন্সর প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুও শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম। পাশাপাশি এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য সরাসরি স্থলসেনা ও অন্যান্য বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
তবে ‘নেত্র’ এবং ইজ়রায়েলি ‘ফ্যালকন’-এর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ‘ফ্যালকন’ ৩৬০ ডিগ্রি এলাকা জুড়ে নজরদারি করতে পারে, যেখানে ‘নেত্র’-র কার্যকর নজরদারির পরিধি প্রায় ২৪০ ডিগ্রি। অন্য দিকে, ‘নেত্র’-র রেডারের পাল্লা ৪৫০-৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে জানানো হয়েছে, যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেয়।
ভারত ইতিমধ্যেই প্রায় ৮,১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ইজ়রায়েল থেকে তিনটি ‘ফ্যালকন’ অ্যাওয়াক্স সংগ্রহ করেছে। রাশিয়ার আইএল-৭৬ পরিবহণ বিমানে বসানো এই ব্যবস্থাগুলি ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তখন পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানগুলিকে আকাশ থেকেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিল ‘ফ্যালকন’। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক অভিযানের সময়ও এই নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার হয়েছে।
যদিও ‘নেত্র’ ২০১৭ সালেই ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে যোগ দেয়, এত দিন পর্যন্ত এটিকে কোনও ঘোষিত সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে এর কার্যকারিতা পরীক্ষামূলক ভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে অপারেশনাল ছাড়পত্র মেলায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোন শনাক্তকরণ এবং যুদ্ধবিমান পরিচালনায় ‘নেত্র’-র ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অ্যাওয়াক্স ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পাকিস্তান ও চিন— দুই সীমান্তেই আকাশপথে নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে ‘নেত্র’ ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?