গণিত আর কম্পিউটারের মেলবন্ধন!
গণিতের জটিল সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ কিংবা সাইবার নিরাপত্তা— আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হচ্ছে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের সমন্বয়। সেই কারণেই উচ্চশিক্ষায় জনপ্রিয়তা বাড়ছে ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং বিষয়ের।
রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় নবম স্থানাধিকারী দেবজিৎ পালের মতো অনেক পড়ুয়ারই এখন পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই বিষয়। আইআইটি খড়্গপুরের মতো দেশের নামী প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগও তৈরি হয়েছে। গণিত ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের জন্য খুলে দিতে পারে একাধিক পেশার দরজা।
কী শেখানো হয় ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং-এ?
এটি একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিষয়, যেখানে গণিতের তত্ত্ব ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের ব্যবহারিক দিক একসঙ্গে পড়ানো হয়। শুধু সূত্র মুখস্থ নয়, বরং কোনও জটিল সমস্যাকে বিশ্লেষণ করে তার একাধিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই এই বিষয়ের অন্যতম লক্ষ্য।
এই কোর্সে সাধারণত কোডিং, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, গ্রাফ থিয়োরি, ক্রিপ্টোগ্রাফি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং সায়েন্টিফিক কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয় শেখানো হয়।
গণিতের সাহায্যে অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা যায়। আর কম্পিউটারের শক্তি ব্যবহার করে সেই বিশ্লেষণকে দ্রুত ও নির্ভুল করা সম্ভব। এই দুইয়ের সমন্বয়ই ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ের মূল ভিত্তি।
দ্বাদশের পর কী ভাবে শুরু করবেন?
উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষার পরে এই বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করা যায়। সাধারণত বিটেক (B.Tech) বা বিএসসি (B.Sc) ডিগ্রি কোর্সের মাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া যায়।
স্নাতকে ভর্তির জন্য দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিত থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়।
তবে কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমেও ছাত্রছাত্রী নির্বাচন করে। যেমন Indian Statistical Institute, Indian Institute of Science এবং Birla Institute of Technology and Science-এর মতো প্রতিষ্ঠানেও এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
কোথায় পড়ানো হয়?
দেশের বেশ কিছু নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং পড়ানো হচ্ছে।
বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে এই বিষয় পড়ার সুযোগ রয়েছে University of Delhi, Indian Institute of Science এবং International Institute of Information Technology Hyderabad-এর মতো প্রতিষ্ঠানে।
প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে Indian Institute of Technology Delhi, Indian Institute of Technology Bombay এবং Indian Institute of Technology Kharagpur-এ এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা যায়।
স্নাতকের পর স্নাতকোত্তর এবং গবেষণার সুযোগও রয়েছে।
পেশাক্ষেত্রে কী ধরনের সুযোগ?
প্রযুক্তি নির্ভর এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে চাকরির ক্ষেত্রও বেশ বিস্তৃত। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এবং গবেষণাক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে পড়াশোনা করা ব্যক্তিরা যে সব পেশায় যেতে পারেন, তার মধ্যে রয়েছে—
- সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
- ডেটা সায়েন্টিস্ট
- মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার
- কোয়ান্টিটেটিভ অ্যানালিস্ট
- রিসার্চ সায়েন্টিস্ট
এ ছাড়াও বিমা শিল্পে ঝুঁকি বিশ্লেষণের কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অ্যাকচুরিয়াল ক্ষেত্রে কাজ করতে হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা এবং অটোমেশনের যুগে গণিতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যাঁদের গণিত ও কোডিংয়ের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের জন্য ম্যাথেম্যাটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটিং হতে পারে ভবিষ্যতের অন্যতম সম্ভাবনাময় উচ্চশিক্ষার পথ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?