তারাতলা বিপর্যয় ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে!
তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ২০ জনকে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিধানসভায় এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই দুর্ঘটনার জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে সরাসরি দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে। শুভেন্দুর কথায়, “সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনা সেই পাপেরই ফল।”
বিধানসভায় তিনি দাবি করেন, ভেঙে পড়া গুদামের নির্মাণ-নকশার অনুমোদনের নথিতে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সেই নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই ঘটনায় কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
এরই পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা পুরসভার পাশাপাশি রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, সোনারপুর, বারুইপুর-সহ একাধিক পুর এলাকায় আগামী চার সপ্তাহ জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হবে। ইতিমধ্যেই অনুমোদিত সব নির্মাণ-নকশার প্রযুক্তিগত অডিট করার জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছিলেন।
অন্যদিকে, শুভেন্দুর অভিযোগের জবাবে ফিরহাদ হাকিম বলেন, কোনও নির্মাণ-নকশার প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন বা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে থাকত না। তাঁর বক্তব্য, বিল্ডিং বিভাগের বিশেষজ্ঞ এবং মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি সব নথি যাচাই করার পরই ফাইল তাঁর কাছে আসত। তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে তাতে স্বাক্ষর করতেন। তাই ওই গুদামের নকশা বা তার প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ভূমিকা বা জ্ঞান ছিল না বলেই দাবি করেন তিনি।
এ দিন বিধানসভায় কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, অতীতে পুরসভার একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী মহল নির্মাণ-অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সেই অভিযোগেরও তদন্তের ইঙ্গিত দেন তিনি।
উদ্ধারকাজ নিয়েও রাজ্যের পূর্ববর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ভারী লোহার বিম কাটার মতো আধুনিক যন্ত্র পর্যন্ত রাজ্যের হাতে ছিল না। ফলে ভারতীয় সেনার আধুনিক সরঞ্জাম এবং ২১৫ জন জওয়ানের সহায়তায় বহু শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে ২০০ জন প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়ে একটি বিশেষ উদ্ধার বাহিনী গঠনের পরিকল্পনার কথাও বিধানসভায় জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে সরকার জানিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?