কুকুরের সমান লম্বা কাঁকড়াবিছে ঘুরে বেড়াত পৃথিবীতে! ১৫০ বছরের রহস্য ভেদ করে চমকে দিল নতুন গবেষণা

কুকুরের সমান লম্বা কাঁকড়াবিছে ঘুরে বেড়াত পৃথিবীতে!! আজ থেকে প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর চেহারা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তখনও ডাইনোসরের আবির্ভাব হয়নি। সেই সময় স্থলভাগে বিচরণ করত কুকুরের সমান…

June 26, 2026
1 min read

কুকুরের সমান লম্বা কাঁকড়াবিছে ঘুরে বেড়াত পৃথিবীতে!!

আজ থেকে প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর চেহারা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তখনও ডাইনোসরের আবির্ভাব হয়নি। সেই সময় স্থলভাগে বিচরণ করত কুকুরের সমান আকারের এক বিশাল কাঁকড়াবিছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলেছে সেই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর পরিচয়, যা প্রায় দেড়শো বছর ধরে রহস্যের আড়ালেই ছিল।

বিজ্ঞানীদের দাবি, এই বিলুপ্ত প্রাণীর নাম প্রেইআর্কটুরাস গিগাস (Praearcturus gigas)। দৈর্ঘ্যে এটি প্রায় সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত হতে পারত, অর্থাৎ বর্তমানের সাধারণ কাঁকড়াবিছের তুলনায় প্রায় ১২ থেকে ১৩ গুণ বড়। আজকের দিনে যে কাঁকড়াবিছে সাধারণত দুই থেকে সাড়ে তিন ইঞ্চি লম্বা হয়, তার সঙ্গে এই প্রাচীন প্রাণীর তুলনা কার্যত অসম্ভব।

এই জীবাশ্মের ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। ১৮৭০ সালে ব্রিটেনে প্রথম এর জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু সেটি অসম্পূর্ণ হওয়ায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে পারেননি, এটি আদৌ কোন প্রাণীর। অনেকেই সেটিকে বিশাল আকারের কেন্নো বা অন্য কোনও সন্ধিপদী প্রাণী বলে মনে করেছিলেন। অবশেষে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজ়িয়ামের জীবাশ্মবিদ রিচি হাওয়ার্ড এবং তাঁর সহকর্মীরা এই জীবাশ্ম নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেন। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে Palaeontology জার্নালে। কার্বন ডেটিংয়ে জানা গিয়েছে, জীবাশ্মটির বয়স প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লক্ষ বছর। অর্থাৎ, ডাইনোসরের পৃথিবীতে আসারও প্রায় ১৬ কোটি বছর আগে এই বিশাল কাঁকড়াবিছের অস্তিত্ব ছিল।

গবেষকদের মতে, সেই সময় স্থলভাগে বড় কোনও শিকারি প্রাণী ছিল না। ফলে খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতাও ছিল কম। সম্ভবত এই কারণেই প্রেইআর্কটুরাস গিগাস এত বড় আকার ধারণ করতে পেরেছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিবেশে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল।

গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, প্রাণীটি শুধু স্থলেই নয়, জলেও বিচরণ করতে পারত। এর শরীরে কাঁকড়া বা লবস্টারের মতো পাখনার আকৃতির কিছু গঠন ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে শিকার ধরার জন্য তারা নিয়মিত জলে নামত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সে সময় স্থলভাগের বাস্তুতন্ত্র এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি বলেই এই দ্বৈত জীবনযাত্রা তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করেছিল।

ব্রিটেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া একই সময়ের আরও কয়েকটি জীবাশ্মের সঙ্গে তুলনা করে গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি সত্যিই এক বিশালাকার কাঁকড়াবিছের প্রজাতি। শুধু তাই নয়, এর এক একটি দাঁড়ার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় সাড়ে ছয় ইঞ্চি— যা বর্তমানের একটি পূর্ণবয়স্ক কাঁকড়াবিছের গোটা শরীরের চেয়েও বড়।

গবেষকদের ধারণা, এই প্রজাতি আরও প্রায় চার কোটি বছর পৃথিবীতে টিকে ছিল। পরে নতুন শিকারি প্রাণীর আবির্ভাব এবং খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় এই দৈত্যাকার কাঁকড়াবিছেরা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *