দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস!
বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় চমক দেখাল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম বার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল আফ্রিকার দেশটি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবেগে ভেসে যায় পুরো দল। কেউ মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ উল্লাসে সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন। সমর্থকদের চোখেও ছিল আনন্দাশ্রু। কারণ, দেশের ফুটবল ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় সাফল্য।
ম্যাচের আগে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই দক্ষিণ কোরিয়াকে এগিয়ে রেখেছিলেন। ফিফা ক্রমতালিকায়ও দক্ষিণ কোরিয়া অনেক উপরে। তাদের দলে ছিলেন অভিজ্ঞ তারকা সন হিউং-মিন। কিন্তু মাঠে সব হিসাব উল্টে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে সমীকরণ ছিল কঠিন। তবে ৭৪ বছর বয়সি কোচ হুগো ব্রুস নিজের ফুটবলারদের বিশ্বাস হারাতে দেননি। তাঁর পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণের প্রাণভোমরা সনকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। ম্যাচ জুড়ে তাঁকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেওয়া হয়নি।
শুধু কৌশল নয়, শারীরিক লড়াইয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাঝমাঠ ও রক্ষণে তাদের দৃঢ়তা বারবার প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৬৩ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। থাপেলো মাসেকোর করা গোলেই এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে আর সমতা ফেরাতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া।
এই জয়ের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা নকআউট পর্বে পৌঁছে গেলেও দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তারা গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের উপর নির্ভর করছে তাদের পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনা।
অন্য দিকে, আয়োজক দেশ মেক্সিকো গ্রুপ পর্বে নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে। শেষ ম্যাচে চেকিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে গ্রুপের তিনটি ম্যাচই জয়ের নজির গড়েছে মেক্সিকো।
প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকলেও বিরতির পর ম্যাচের রং বদলে যায়। ৫৫ মিনিটে মাতেও শাভেজ় গোল করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন। তার ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জুলিয়ান কুইনোনেস। এই দুই দ্রুত গোলেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় চেকিয়া। যোগ করা সময়ে আলভারো ফিদালগোর গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ছন্দে রয়েছে মেক্সিকো। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সমর্থন অবশ্যই বাড়তি শক্তি দিচ্ছে, তবে দলের ফুটবলও নজর কেড়েছে বিশেষজ্ঞদের। আক্রমণভাগে কুইনোনেসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স মেক্সিকোর বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে।
গ্রুপ পর্ব শেষে এক দিকে ইতিহাস গড়ে নকআউটে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা, অন্য দিকে নিখুঁত রেকর্ড নিয়ে পরের পর্বে পা রাখল মেক্সিকো। বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্রতিযোগিতা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?