জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়!
অসমের জনপ্রিয় গায়ক জ়ুবিন গার্গের মৃত্যুর তদন্ত ঘিরে ফের নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত শ্যামকানু মহান্তের জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অসম সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপের পর মামলার পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে নজর রয়েছে সকলের।
বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ শ্যামকানু মহান্তের দায়ের করা বিশেষ আবেদন (এসএলপি) গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে অসম সরকারের কাছে এই বিষয়ে জবাব চেয়েছে আদালত। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে।
এর আগে অবশ্য শ্যামকানুর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল গৌহাটি হাই কোর্ট। সেই সময় আদালত জানিয়েছিল, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক ভাবে একটি ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উঠে এসেছে এবং সেই ঘটনায় মহান্তের ভূমিকা থাকার ইঙ্গিতও মিলেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সিঙ্গাপুরে আয়োজিত একটি ইয়ট পার্টির সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনের ক্ষেত্রে শ্যামকানুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সরকারি পক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছিলেন, জ়ুবিনকে দীর্ঘ সময় মদ্যপান করানো হয়েছিল এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা জানা সত্ত্বেও তাঁকে ইয়ট ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি, তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও যথাযথ ভাবে করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
জামিনের আবেদন খারিজ করার সময় হাই কোর্ট আরও জানিয়েছিল, অভিযুক্তের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর শ্যামকানু মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হওয়ার পর দিল্লি বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
উত্তর-পূর্ব আন্তর্জাতিক উৎসব (এনইআইএফ)-এর অন্যতম আয়োজক শ্যামকানু মহান্ত বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের ল্যাজ়ারাস দ্বীপের কাছে সাঁতার কাটতে গিয়ে মৃত্যু হয় জ়ুবিন গার্গের। ঘটনার পরের দিনই একটি অনুষ্ঠানে তাঁর গান গাওয়ার কথা ছিল। প্রিয় শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যুতে অসম-সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।
ঘটনার তদন্তে অসম পুলিশের সিআইডি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে। তদন্ত শেষে গত ডিসেম্বরে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে শ্যামকানু মহান্ত-সহ মোট সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাঁদের মধ্যে চার জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এখন সুপ্রিম কোর্টে শ্যামকানুর জামিন আবেদন ঘিরে পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে মামলার আগামী পদক্ষেপ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?