আংশিক হাঁটু প্রতিস্থাপন কী? কেন প্রয়োজন হতে পারে এই অস্ত্রোপচার?

আংশিক হাঁটু প্রতিস্থাপন কী? বর্তমানে হাঁটুর ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা সব বয়সের মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, মাটিতে বসা বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটার মতো দৈনন্দিন কাজও অনেকের…

June 24, 2026
0 min read

আংশিক হাঁটু প্রতিস্থাপন কী?

বর্তমানে হাঁটুর ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা সব বয়সের মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা, মাটিতে বসা বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটার মতো দৈনন্দিন কাজও অনেকের কাছে কষ্টকর হয়ে উঠছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হাঁটুর অস্টিওআর্থারাইটিস, অর্থাৎ হাঁটুর হাড় ও তরুণাস্থির ক্ষয়।

তবে হাঁটুর সমস্যা মানেই যে পুরো হাঁটু প্রতিস্থাপন করতে হবে, এমন ধারণা এখন আর সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে আংশিক হাঁটু প্রতিস্থাপন বা পার্শিয়াল নি রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ রয়েছে।

অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রঞ্জন কামিল্যার মতে, হাঁটুর গঠন মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। অনেক সময় দেখা যায়, এই তিনটি অংশের মধ্যে শুধুমাত্র একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানেই ব্যথা বা ক্ষয়ের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো হাঁটু বদলানোর প্রয়োজন হয় না। বরং শুধুমাত্র আক্রান্ত অংশটুকু প্রতিস্থাপন করেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ হাঁটু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে হাঁটুর গোটা জয়েন্টের পৃষ্ঠ বদলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাঁটুর মাঝখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ লিগামেন্টও সরাতে হয়। ফলে অনেক রোগীরই মনে হয়, হাঁটু যেন আর নিজের স্বাভাবিক অঙ্গের মতো কাজ করছে না।

অন্যদিকে আংশিক হাঁটু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে হাঁটুর সুস্থ অংশগুলি অক্ষত রাখা হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর হাঁটু অনেক বেশি স্বাভাবিক অনুভূত হয় এবং চলাফেরার সময় কৃত্রিমতার অনুভূতি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

এই পদ্ধতির আরও একটি বড় সুবিধা হল, অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা কম হয় এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। অনেক ক্ষেত্রেই অপারেশনের দিন থেকেই রোগীকে হাঁটানো শুরু করা যায়। সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।

বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ও রোবোটিক সহায়তায় হাঁটু প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার আরও নিখুঁতভাবে করা হচ্ছে। এতে কম কাটাছেঁড়া লাগে, অস্ত্রোপচারের নির্ভুলতা বাড়ে এবং ব্যবহৃত ইমপ্ল্যান্ট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর ব্যথা সহ্য না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক রোগনির্ণয় ও প্রয়োজন অনুযায়ী আংশিক হাঁটু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথামুক্ত ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *