হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তির উপায় জানালেন মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী শ্রীराम নেনে!
ত্রিশ থেকে ষাট বছর বয়সী অনেকেই এখন হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন। বিশেষ করে শুয়ে থাকা থেকে উঠে দাঁড়ানো, সিঁড়ি ভাঙা বা বেশিক্ষণ বসে থাকার পর হাঁটুর টান টান ব্যথা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। বয়স বাড়লে হাঁটুর সমস্যা নতুন কিছু নয়, তবে চিকিৎসকরা বলছেন, অল্প বয়স থেকেই সতর্ক না থাকলে ভবিষ্যতে এই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এই প্রসঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী এবং পেশায় শল্যচিকিৎসক ডা. শ্রীराम নেনে হাঁটুর যত্ন নেওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
শ্রীরামের মতে, হাঁটু যতক্ষণ মজবুত থাকবে, ততক্ষণই শরীর সচল ও ফিট থাকবে। তিনি বলেন, “হাঁটুর যত্ন নিতে দেরি করলে পরে আর্থ্রাইটিস বা হাঁটুর বড় সমস্যা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। তাই এখন থেকেই কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।”
কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন?
বুঝেশুনে শরীরচর্চা করুন: হাঁটু সুস্থ রাখতে হলে শরীরচর্চা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে শ্রীরাম পরামর্শ দিয়েছেন হালকা ধরণের শরীরচর্চা করতে, যাতে হাঁটুর উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। নিয়মিত সাইকেল চালানো, হালকা হাঁটা কিংবা সাঁতার কাটা হাঁটুর জন্য উপকারী। এসব ব্যায়ামে হাঁটুর সংযোগস্থল মজবুত হয় এবং দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জন্য একপ্রকার শত্রু। শ্রীরাম বলেন, “শরীরে ১ কেজি বাড়তি ওজন মানে হাঁটুর উপর প্রায় ৪ কেজি বাড়তি চাপ।” তাই ওজন বাড়তে দেওয়া চলবে না। খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন ঠিক রাখার কথা বলেছেন তিনি।
পেশি মজবুত রাখুন: হাঁটু ঠিক রাখার জন্য আশেপাশের পেশিগুলোকেও শক্ত রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন স্কোয়াট, লেগ লিফ্ট, হ্যামস্ট্রিং কার্লসের মতো ব্যায়াম করলে হাঁটুর পেশি শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি, রোজ অন্তত পাঁচ মিনিট স্ট্রেচিং করাও জরুরি।
সঠিক জুতো বাছুন: হাঁটু ভাল রাখতে হলে ফ্যাশনের জন্য ভুল জুতো না পরে আরামদায়ক, নরম সোল এবং সাপোর্ট দেওয়া জুতো বেছে নিতে হবে। অতিরিক্ত হিল বা একেবারে ফ্ল্যাট সোলের জুতো হাঁটুর ক্ষতি করে। শ্রীরাম বলেন, “ফ্যাশনের জন্য হাঁটুর ক্ষতি কখনও কাম্য নয়।”
চোট-আঘাতে সতর্কতা: শরীরচর্চা কিংবা হাঁটার সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অবিলম্বে বিশ্রাম, বরফ লাগানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চোটের পরপরই অনুশীলন বন্ধ রেখে হাঁটু ঠিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
শ্রীরামের এই উপদেশ মানলে অল্প বয়স থেকেই হাঁটুর সমস্যা অনেকটা এড়ানো সম্ভব। হাঁটুর যত্ন নেওয়া শুধু বয়সের জন্য নয়, যেকোনও বয়সেই সুস্থ ও ফিট থাকার অপরিহার্য অংশ।
গুগ্ল ড্রাইভের জায়গা শেষ? টাকা না খরচ করেও ১৫ জিবির বাইরে স্টোরেজ বাঁচানোর ৫টি কার্যকরী উপায়