এমবাপের জোড়া গোলে নকআউটে ফ্রান্স!
কিলিয়ান এমবাপে যেন এক অন্য ছন্দে রয়েছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও একই কীর্তি গড়লেন ফরাসি তারকা। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের রেকর্ড স্পর্শ করলেন এমবাপে। এখন তাঁর সামনে রয়েছেন শুধুই Lionel Messi।
তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আমেরিকার আবহাওয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচ শেষ হতে সময় লাগল প্রায় চার ঘণ্টা। বিরতির সময় শুরু হওয়া প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ রাখতে হয়। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বজ্রপাত হলে ম্যাচ স্থগিত রাখতে হয়, আর সেই কারণেই ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ বিশ্বকাপ ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা।
ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফ্রান্সের আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন এমবাপে। ১৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাঁ পায়ের দুরন্ত শট ইরাকের গোলরক্ষককে কোনও সুযোগই দেয়নি। সেই গোলেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
ইরাক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। দীর্ঘ বিরতির পর খেলা ফের শুরু হলে আবারও জ্বলে ওঠেন এমবাপে। দ্বিতীয় গোল করে তিনি শুধু দলের জয়কেই নিশ্চিত করেননি, বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকাতেও আরও উপরে উঠে গেছেন। এই গোলের ফলে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি Ronaldo-কে পিছনে ফেলে ক্লোজ়ের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন।
ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি আসে Ousmane Dembélé-র পা থেকে। ৬৬ মিনিটে তাঁর গোল ম্যাচের শেষ সন্দেহটুকুও দূর করে দেয়।
দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্স ইতিমধ্যেই নকআউট পর্বে জায়গা পাকা করেছে। তবে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ Erling Haaland-এর নরওয়ে। প্রথম দুই ম্যাচের তুলনায় সেই লড়াই যে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে, তা বলাই যায়।
এ দিকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড় এখন জমে উঠেছে। একদিকে মেসি, অন্যদিকে এমবাপে। দু’জনের মধ্যেই চলছে ইতিহাস গড়ার প্রতিযোগিতা। মেসি ইতিমধ্যেই শীর্ষস্থান দখল করেছেন, আর এমবাপে তাঁর ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছেন। পরের ম্যাচে একটি গোল করলেই ফরাসি তারকা এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবেন। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার জন্য প্রস্তুত দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?