ইরানের দারুণ প্রত্যাবর্তন, হতাশ বেলজিয়াম ও উরুগুয়ে!
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একের পর এক চমক দেখা যাচ্ছে। নবাগত কাবো ভার্দে যেমন স্পেনকে রুখে দিয়ে আলোচনায় এসেছে, তেমনই যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে ইরান। দু’বার পিছিয়ে পড়েও নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। একই দিনে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে আটকে দিয়েছে মিশর, আর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে উরুগুয়ে।
ইরানের লড়াকু ফুটবল
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক হামলার কারণে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ঠিকমতো নিতে পারেনি ইরান। তবুও মাঠে নামার পর তাদের খেলায় সেই সমস্যার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি।
ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটেই নিউ জিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ইলিজা জাস্ট। তবে ইরান দ্রুত নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেয়। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান রামিন রেজায়িয়ান। প্রথমার্ধ ১-১ অবস্থায় শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও আঘাত হানে নিউ জিল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জাস্ট। কিন্তু হাল ছাড়েননি ইরানের ফুটবলাররা। মাত্র ৯ মিনিট পর, ৬৪ মিনিটে মহম্মদ মোহেবি গোল করে আবারও সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত ২-২ ফলেই শেষ হয় ম্যাচ।
এই ম্যাচে ইরানের আত্মবিশ্বাস, পাসিং ফুটবল এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা প্রমাণ করেছে, লড়াই করার মানসিকতা এখনও অটুট।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারের নজরকাড়া উপস্থিতি
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এই ম্যাচে খেলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার সরপ্রীত সিংহ। পঞ্জাবি পরিবারে জন্ম নেওয়া সরপ্রীত অকল্যান্ডে বড় হয়েছেন এবং পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে ভাল পারফরম্যান্স করেন।
তিনি আগে ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলতে ভারতে এসেছিলেন। কয়েক দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিশান ভেলুপিল্লাই। ফলে এবারের বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের উপস্থিতি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
বেলজিয়ামকে রুখে দিল মিশর
সিয়াটলে প্রায় ৬৬ হাজার দর্শকের সামনে বেলজিয়াম ও মিশরের ম্যাচও ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
২০ মিনিটে মহম্মদ সালাহর নিখুঁত পাস থেকে এমাম আশুর গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন। বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালালেও মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর দুর্দান্ত সেভ করে একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন।
অবশেষে ৬৬ মিনিটে মহম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরে বেলজিয়াম। এরপর দুই দলই জয়ের জন্য ঝাঁপায়, কিন্তু আর কোনও গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ড্রয়ে।
সৌদি আরবের সামনে আটকে উরুগুয়ে
আরেকটি চমক দেখা যায় সৌদি আরব ও উরুগুয়ের ম্যাচে। ৪১ মিনিটে আব্দুল্লা আল আমরির গোলে এগিয়ে যায় সৌদি আরব। দীর্ঘ সময় সেই লিড ধরে রাখে তারা।
তবে শেষ দিকে চাপ বাড়িয়ে ৮০ মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোলে সমতা ফেরায় উরুগুয়ে। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হয় ম্যাচটি।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এই ফলাফলগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে নামী দলগুলোর জন্য কোনও ম্যাচই সহজ নয়। ইরান, মিশর, সৌদি আরব কিংবা কাবো ভার্দের মতো দলগুলো প্রমাণ করছে, বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে ব্যবধান আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?