তৃণমূলে ভাঙনের নেপথ্যে রমেশ!
তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের ত্রিপুরাভিত্তিক এনসিপিআই-এ যোগদানের ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এই নাটকীয় রাজনৈতিক পালাবদলের পর বারবার সামনে উঠে আসছে এক নাম— সি এম রমেশ। তিনি বিজেপির সাংসদ, আবার সফল শিল্পপতিও। অভিযোগ, তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে এবং বিদ্রোহী শিবিরকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনিই।
সম্প্রতি লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে বিদ্রোহী সাংসদেরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁদের অন্যতম মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভবিষ্যতে আদালতই ঠিক করবে কে “আসল তৃণমূল”। অন্যদিকে কাকলি ঘোষদস্তিদার স্পষ্ট করেন, তাঁরা এনসিপিআইয়ের ব্যানারে কাজ করবেন এবং এনডিএ-র সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলবেন।
এই ঘটনার পরই আলোচনায় আসে রমেশের নাম। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে তৃণমূলের বহু সাংসদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। সংসদের ক্যান্টিন থেকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রেই রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপা জেলার বাসিন্দা রমেশের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্যবসা থেকে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নির্মাণ ও অবকাঠামো সংস্থা রিথউইক প্রজেক্টস কয়েক বছরের মধ্যেই হাজার কোটি টাকার ব্যবসায় পরিণত হয়। ব্যবসায়িক সাফল্যের পর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং প্রথমে তেলুগু দেশম পার্টি-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০১৮ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে একটি ইস্পাত কারখানার দাবিতে আন্দোলন করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অন্ধ্রের আনাকাপল্লি কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে জাতীয় স্তরে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দল ভাঙানোর ক্ষেত্রে রমেশ নতুন নন। টিডিপি থেকে বিজেপিতে যাওয়ার সময়ও একাধিক সাংসদকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছেন বলে দাবি বিরোধীদের।
তবে সব কৃতিত্ব রমেশকে দিতে নারাজ বিশ্লেষকদের আরেক অংশ। তাঁদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব-এর ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে একাধিক গোপন বৈঠক, সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের ফলে এই ভাঙন বাস্তব রূপ পেয়েছে।
তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র অবশ্য রমেশকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্যই রমেশ এই কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন। মহুয়ার ভাষায়, তিনি যেন “কেক তৈরির কারিগর নন, শুধু কিশমিশ ছুড়ে দিয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখাতে চাইছেন।”
এখন নজর আগামী কয়েক মাসের দিকে। বিদ্রোহী সাংসদেরা যদি ভবিষ্যতে তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের উপর দাবি জানায়, তবে আইনি এবং রাজনৈতিক লড়াই আরও জটিল হতে পারে। আর সেই লড়াইয়ের আড়ালে সিএম রমেশের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কৌতূহল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?