তৃণমূলে নতুন ভাঙনের জল্পনা!!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিষদীয় দলের পর এ বার সংসদীয় দলেও ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূলের ১৯ জন লোকসভা সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত কয়েকটি নথি, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিদ্রোহী শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই সাংসদরা নাকি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক ব্লক গঠনের আবেদন জানিয়েছেন। যদিও যে নথিগুলি প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলি আদৌ সেই চিঠির অংশ কি না কিংবা স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েছে কি না, তার কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
প্রকাশিত নথিতে প্রথম স্বাক্ষর রয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। তাঁর নামের পাশে ‘চিফ হুইপ’ বা মুখ্যসচেতক পদবিও উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়, যাঁর নামের পাশে ‘ডেপুটি লিডার’ বা উপ-দলনেতা লেখা রয়েছে।
এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন মথুরাপুরের বাপি হালদার, বর্ধমান পূর্বের শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী এবং ঝাড়গ্রামের কালীপদ সরেন।
বিশেষ নজর কেড়েছে ঘাটালের সাংসদ ও অভিনেতা দেব (দীপক অধিকারী)-এর নাম। পাশাপাশি রয়েছেন মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, আরামবাগের মিতালি বাগ এবং কলকাতা দক্ষিণের মালা রায়।
নথিতে আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ নাম হল হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। সূত্রের দাবি, তাঁরা পরে এই নথিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাই তাঁদের নাম মূল ক্রমতালিকার বাইরে রয়েছে।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, এই ১৯ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে আবেদন করেছেন যাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তাঁদের একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যদিও স্পিকারের সচিবালয় এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ফলে চিঠি আদৌ জমা পড়েছে কি না বা জমা পড়লেও তার বর্তমান অবস্থান কী, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে বিদ্রোহী সূত্রগুলির আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট সাংসদরা ভবিষ্যতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করার দিকেও ঝুঁকছেন। তবে এই দাবিরও কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, প্রকাশ্যে আসা স্বাক্ষর-তালিকা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে নথিগুলির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?