আমেরিকার তীব্র গরমে স্পেনের ভরসা ‘কুলিং ভেস্ট’!
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, আবহাওয়ার সঙ্গেও এক কঠিন পরীক্ষার নাম। আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তীব্র গরমে নাজেহাল হচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলি। সেই কারণেই ম্যাচ চলাকালীন দু’বার করে জলপানের বিরতি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজকেরা। তবে শুধু বিরতির উপর ভরসা করে বসে নেই স্পেন। গরমের মোকাবিলায় তারা ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক ‘কুলিং ভেস্ট’ প্রযুক্তি।
স্পেনের অনুশীলনে এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে লেমিনে ইয়ামালসহ দলের একাধিক ফুটবলারকে বিশেষ ধরনের এই পোশাক পরে মাঠে নামতে। লক্ষ্য একটাই— প্রচণ্ড গরমেও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ক্লান্তি কমানো।
এই ‘কুলিং ভেস্ট’ তৈরি করেছে আমেরিকার একটি প্রযুক্তি সংস্থা। পোশাকটির ভিতরে রয়েছে বিশেষ ধরনের জমাট জেল, যা শরীরের উপরিভাগে জমে থাকা অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে নেয়। এর ফলে কঠোর অনুশীলনের পরেও শরীর তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে। শুধু ভেস্টই নয়, এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ইনসুলেটেড জ্যাকেট এবং ‘কুলিং ওভারশ্যু’। এই প্রযুক্তিগুলি শরীরের উপরের ও নীচের অংশে শীতলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রস্তুতকারক সংস্থার দাবি, প্রথমে ফর্মুলা ওয়ানের চালকদের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে এর কার্যকারিতা দেখে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাতেও তা প্রয়োগ করা শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের একাধিক শীর্ষ ফুটবল দল এই প্রযুক্তির সুবিধা নিচ্ছে।
স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘কুলিং ভেস্ট’ ব্যবহারের ফলে খেলোয়াড়দের শরীরের সামগ্রিক তাপমাত্রা প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম রাখা সম্ভব। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ত্বকের তাপমাত্রা প্রায় ১৩ ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর ফলে খেলোয়াড়রা শুধু বেশি সতেজ থাকেন না, অনুশীলন বা ম্যাচের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগও পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের শক্তি দ্রুত ক্ষয় হয়। ফলে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং পেশির সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে পারফরম্যান্সের মানও উন্নত হয়। সেই কারণেই বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় এই ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
স্পেনের প্রথম ম্যাচ কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আটলান্টার ঢাকা স্টেডিয়ামে হলেও দলটি অনুশীলন করছে টেনেসির চ্যাটানুগায়। সেখানকার আবহাওয়াও বেশ উষ্ণ। ইউরোপের তুলনায় আমেরিকার তাপমাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় ইউরোপীয় ফুটবলারদের মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাই স্পেন একাই নয়, আরও অন্তত ১৪টি দেশ এই ধরনের কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্বকাপে সাফল্য নির্ভর করে শুধু দক্ষতা বা কৌশলের উপর নয়, শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার উপরও। তাই আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তি এখন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। স্পেনের আশা, ‘কুলিং ভেস্ট’ তাদের ফুটবলারদের ফিট ও সতেজ রাখবে, আর সেই সুবিধা মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রতিফলিত হবে।
গরমের বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তিগত লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?