মঙ্গলের মাটিতে অক্সিজেন তৈরি!
মঙ্গলে মানুষের বসবাসের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিলেন বিজ্ঞানীরা। প্রথম বার মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল থেকেই সফলভাবে অক্সিজেন উৎপাদন করা হয়েছে। নাসা এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি বিশেষ যন্ত্র মঙ্গলের মাটিতে দাঁড়িয়ে মোট ১২২ গ্রাম অক্সিজেন তৈরি করেছে। এই সাফল্য ভবিষ্যতের মানব মঙ্গল অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই যন্ত্রটির নাম MOXIE (Mars Oxygen In-Situ Resource Utilization Experiment)। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভারের সঙ্গে এটি মঙ্গলে পৌঁছেছিল। প্রায় ১৫ কিলোগ্রাম ওজনের এই যন্ত্রটির মূল লক্ষ্য ছিল মঙ্গলের স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে অক্সিজেন উৎপাদন সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করা।
মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৫ শতাংশই কার্বন ডাই-অক্সাইড। যদিও মানুষের শ্বাস নেওয়ার জন্য তা উপযোগী নয়, কিন্তু এই গ্যাসের মধ্যেই প্রচুর অক্সিজেন লুকিয়ে রয়েছে। MOXIE সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে অক্সিজেন আলাদা করার কাজ করেছে।
প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে মঙ্গলের বায়ু সংগ্রহ করে তা সংকুচিত করা হয়। এরপর প্রায় ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করে একটি বিশেষ সেরামিক সেলের মধ্যে পাঠানো হয়। সেখানে বৈদ্যুতিক প্রবাহের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ভেঙে অক্সিজেন এবং কার্বন মনোক্সাইড তৈরি করা হয়। উৎপন্ন অক্সিজেনের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে সেটিকে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী MOXIE প্রতি ঘণ্টায় ৬ গ্রাম অক্সিজেন উৎপাদন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি ঘণ্টায় ১২ গ্রাম পর্যন্ত অক্সিজেন তৈরি করতে সক্ষম হয়, যা বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশার দ্বিগুণ। দিন-রাত, বিভিন্ন ঋতু এবং পরিবর্তিত আবহাওয়াতেও যন্ত্রটি সফলভাবে কাজ করেছে।
এই প্রযুক্তির গুরুত্ব শুধু মঙ্গলে শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে মহাকাশচারীদের পৃথিবীতে ফেরার জন্য যে বিপুল পরিমাণ রকেট জ্বালানি ও অক্সিজেন প্রয়োজন হবে, তার বড় অংশই মঙ্গলে তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে পৃথিবী থেকে বিপুল ওজনের অক্সিজেন বহন করার প্রয়োজন কমে যাবে।
তবে বাস্তবে মানুষের ব্যবহার উপযোগী ব্যবস্থা তৈরি করতে এখনও অনেক পথ বাকি। বর্তমান MOXIE একটি পরীক্ষামূলক যন্ত্র মাত্র। ভবিষ্যতের মিশনে এমন যন্ত্র দরকার হবে, যা প্রতি ঘণ্টায় কয়েক কিলোগ্রাম অক্সিজেন উৎপাদন করতে পারবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে।
তবুও বিজ্ঞানীরা এই সাফল্যকে যুগান্তকারী বলেই মনে করছেন। কারণ, প্রথম বার কোনও ভিনগ্রহের স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলে স্থায়ী মানব বসতির স্বপ্ন এখনও অনেক দূরের হলেও MOXIE দেখিয়ে দিয়েছে, সেই স্বপ্ন আর কেবল কল্পনা নয়— বাস্তবের দিকেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?