সাধারণ পাম্প থেকে আর বাল্কে পেট্রল-ডিজেল!
দেশের কিছু অঞ্চলে ডিজেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে। এই নির্দেশ অনুযায়ী, শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলি আর সাধারণ খুচরা পেট্রল পাম্প থেকে একলপ্তে পেট্রল বা ডিজেল কিনতে পারবে না। তাদের বাধ্যতামূলকভাবে বাল্ক (পাইকারি) বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।
কেন্দ্রের জারি করা ‘Motor Spirit and High Speed Diesel (Temporary Regulation of Supply Through Retail Outlet) Order, 2026’ অনুযায়ী এই নিয়ম আপাতত সর্বোচ্চ ৯০ দিন কার্যকর থাকবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেখা গেছে, শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি বাল্ক বিক্রয়কেন্দ্রের তুলনায় কম দামে জ্বালানি পাওয়ার জন্য সাধারণ পাম্প থেকে বেশি পরিমাণে ডিজেল কিনছে।
উদাহরণ হিসেবে দিল্লির পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে খুচরা পাম্পে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৯৫.২০ টাকা হলেও বাল্ক বিক্রয়কেন্দ্রে একই ডিজেলের দাম প্রায় ১৩৪.৫০ টাকা। এই বিপুল মূল্য পার্থক্যের কারণেই বহু সংস্থা সাধারণ পাম্পমুখী হয়েছে বলে অভিযোগ।
কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে?
টেলিকম টাওয়ার, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, নির্মাণ সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বৃহৎ জ্বালানি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে এখন থেকে বাল্ক ডিপো থেকেই জ্বালানি কিনতে হবে।
সরকারের মতে, খুচরা গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়ায় অনেক এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ পড়ছিল।
নতুন নিয়মে কী কী বলা হয়েছে?
- শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীরা সাধারণ পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন না।
- ডিজেল শুধুমাত্র যানবাহনের ট্যাঙ্কে ভরা যাবে।
- আলাদা ড্রাম, ক্যান বা অন্য কোনও পাত্রে ডিজেল নেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
- প্রতি গ্রাহক বা যানবাহনের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার ডিজেল কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- খুচরা পাম্প থেকে কেনা জ্বালানি পুনরায় বিক্রি করা যাবে না।
সরকারের যুক্তি
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং খুচরা পাম্পে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেও কেন্দ্র আশ্বস্ত করেছিল যে দেশে পেট্রল-ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই। তবে পরে দেখা যায়, বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা কম দামের সুবিধা নিতে সাধারণ পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনছেন। সেই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতেই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের উপর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়বে না বলে কেন্দ্র জানিয়েছে, তবে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?