বিশ্বকাপের আগে রোনাল্ডো বন্দনায় পর্তুগাল কোচ!
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম আলাদা করে লিখতে হয়। অসংখ্য গোল, একের পর এক রেকর্ড এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ স্তরে খেলার পরও তাঁর সাফল্যের ক্ষুধা এতটুকু কমেনি। এ বার নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নামতে চলেছেন পর্তুগালের এই মহাতারকা। আর বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ়।
এক সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ় বলেন, রোনাল্ডোর আবির্ভাবের পর থেকেই পর্তুগালের ফুটবলের মানসিকতা এবং পরিচিতি বদলে গিয়েছে। তাঁর মতে, রোনাল্ডো শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি যুগের নাম। কোচের কথায়, পর্তুগাল এখন টানা নবম বিশ্বকাপে খেলতে নামছে, আর এই ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনে রোনাল্ডোর অবদান অসামান্য।
মার্তিনেজ় মনে করেন, আধুনিক ফুটবলে পেশাদারিত্ব ও ফিটনেসের নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন রোনাল্ডো। ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলে যাওয়া এবং ২২৭টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেওয়া যে কোনও ফুটবলারের পক্ষেই বিরল কৃতিত্ব। তাঁর কথায়, “রোনাল্ডো শুধু গোল করেনি, নতুন প্রজন্মকে দেখিয়েছে কী ভাবে নিজের শরীর ও মানসিকতা ধরে রেখে দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা যায়।”
বয়স বাড়লেও রোনাল্ডোর গুরুত্ব যে একটুও কমেনি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ। তিনি বলেন, ম্যাচের যে কোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও রয়েছে রোনাল্ডোর। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তিনি এখনও বড় হুমকি। মাঠের যে কোনও প্রান্ত থেকে গোল করার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। শুধু আক্রমণ নয়, দলের প্রয়োজনে রক্ষণেও সাহায্য করেন তিনি।
মার্তিনেজ় আরও জানান, রোনাল্ডো মাঠে থাকলে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ, গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার তুলনা নেই। কোচের মতে, “রোনাল্ডোর বিকল্প খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। একজন ফুটবলার দিয়ে তাঁর অভাব পূরণ করা যায় না। আমরা সৌভাগ্যবান যে এখনও তাঁকে আমাদের দলে পাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, আগের কোচ ফের্নান্দো স্যান্টসের সময় রোনাল্ডোকে নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্যান্টস। কিন্তু মার্তিনেজ় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রোনাল্ডোকে কেন্দ্র করেই নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণে এখনও দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রোনাল্ডো।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের অভিযান শুরু হবে ১৭ জুন কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোর লক্ষ্য একটাই— দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্ন, বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে ইতিহাসের পাতায় আরও একবার নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?