তৃণমূলে

তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে: ‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এ কি ঘাসফুল প্রতীক নিয়েও শুরু হবে লড়াই?

‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এ কি ঘাসফুল প্রতীক নিয়েও শুরু হবে লড়াই? পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্থিরতা। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার নতুন বিরোধী…

June 5, 2026
1 min read

‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এ কি ঘাসফুল প্রতীক নিয়েও শুরু হবে লড়াই?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্থিরতা। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি তৃণমূল বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— ভবিষ্যতে কি ‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এর মতো দলীয় প্রতীক নিয়েও সংঘাত দেখা দিতে পারে?

সম্প্রতি বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা পড়ার পর ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে ঋতব্রতের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের নেত্রী হিসেবেই মানেন এবং তাঁকে ভবিষ্যতেও পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান।

এই কারণেই অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি ভাঙনের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন। সেখানে একনাথ শিণ্ডে বা অজিত পওয়ার নিজেদের দলকেই “আসল” দল হিসেবে দাবি করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে দলীয় প্রতীকও নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হন।

পশ্চিমবঙ্গে এখনও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, বিদ্রোহী শিবির এখনও প্রকাশ্যে মমতার নেতৃত্বকে অস্বীকার করেনি। বরং তাঁদের দাবি, দলের ভিতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই আপত্তি রয়েছে।

তবে তৃণমূলের বর্তমান সঙ্কটের সঙ্গে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির কিছু মিলও খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে কেন্দ্র করে দলের একাংশের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের কয়েক জন ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমস্যার জন্য তাঁরা অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দলের বিভিন্ন কমিটি ভেঙে নতুন করে সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আপাতত ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা কম হলেও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে এই ভাঙন শুধুমাত্র বিধানসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সংসদীয় দলেও তার প্রভাব পড়বে— সেটাই এখন দেখার।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তার উত্তর আপাতত সময়ই দেবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *